স্মার্ট গ্যাজেট থেকে নিজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই— সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

ইন্টারনেটে যুক্ত স্মার্ট টিভি, নিরাপত্তা ক্যামেরা কিংবা ঘরের অন্যান্য স্মার্ট গ্যাজেট ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি এসব যন্ত্রের কম্পিউটিং ক্ষমতা একীভূত করে নিজেদের চালু রাখার পাশাপাশি আরও যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআইভিত্তিক ক্ষতিকর প্রোগ্রাম।
এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। সংস্থাটির গবেষকরা মনে করছেন, ছোট আকারের এআই মডেলগুলো চলতি বছরের শেষ নাগাদই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারের এআই মডেলগুলো এরই মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার অনেকগুলো ধাপ সম্পন্ন করতে পারে। তবে সব ধাপ একসঙ্গে নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
অ্যানথ্রপিক বলছে, নিয়ন্ত্রিত ও সরলীকৃত পরীক্ষায় কিছু শক্তিশালী মডেল পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পেরেছে। বাস্তব ইন্টারনেটে এ ধরনের এআই বটনেট ছড়িয়ে পড়েছে, এমন প্রমাণ অবশ্য গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
কীভাবে ছড়াতে পারে এআই?
অ্যানথ্রপিক বলছে, এআইয়ের ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যম হতে পারে বটনেট, যা মূলত ইন্টারনেটে যুক্ত অসংখ্য যন্ত্রের নেটওয়ার্ক, যেগুলো হ্যাকাররা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার স্মার্ট টিভি, রাউটার, ক্যামেরা কিংবা অন্যান্য যন্ত্রে অনুপ্রবেশ করে এসব নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। পরে সেগুলো দিয়ে স্প্যাম ছড়ানো, তথ্য চুরি কিংবা কোনো ওয়েবসাইটে বিপুল পরিমাণ ভুয়া অনুরোধ পাঠিয়ে সেটি অচল করে দেওয়ার মতো হামলা চালানো যায়।
অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক ক্ষতিকর প্রোগ্রামও একইভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পার্থক্য হলো— প্রচলিত ম্যালওয়্যারের মতো নির্দিষ্ট নির্দেশনার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এআই অপরিচিত যন্ত্রের ধরন বুঝে সেখানে নিজেদের চালানোর উপায় খুঁজে নিতে পারে। একাধিক কম ক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রের কম্পিউটিং শক্তি একত্র করেও এআই মডেল চালানো সম্ভব হতে পারে।
গবেষকেরা ১৫টি স্বল্পমূল্যের অ্যান্ড্রয়েড টিভি বক্সে একটি এআই মডেল চালিয়ে দেখিয়েছেন, এ ধরনের যন্ত্রের সম্মিলিত ক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব। তাদের পরীক্ষায় একটি সরলীকৃত নেটওয়ার্কে এআই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছে। তবে পরীক্ষায় কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা সরল করা হয়েছিল।
আগের সতর্কবার্তাগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গত মাসেই অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই সতর্ক করেছিলেন, আগামী এক বছর বা তারও আগে এআই পুরো ইন্টারনেটজুড়ে স্থায়ী বটনেট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। নতুন গবেষণাটি সেই আশঙ্কার প্রযুক্তিগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
তবে অ্যানথ্রপিক বলছে, এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিস্তার ধীর হতে পারে। একটি যন্ত্র থেকে আরেকটি যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে কয়েক দিনও লাগতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টারে অনুপ্রবেশ করে আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং ক্ষমতা দখল করার আশঙ্কা থাকলেও তাদের পরীক্ষায় এমন সক্ষমতা প্রমাণিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় জায়গা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান স্বয়ংক্রিয়তা। আগে সাইবার হামলার বিভিন্ন ধাপে মানুষের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন হতো। কিন্তু এআই যদি নিজেই দুর্বলতা শনাক্ত করা, নতুন যন্ত্রে চালু হওয়া এবং ছড়িয়ে পড়ার কাজ করতে পারে, তাহলে হামলা ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের মতে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং আক্রান্ত যন্ত্র দ্রুত বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে পারে। অর্থাৎ এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট যন্ত্রের নিরাপত্তা জোরদার করাও এখন জরুরি।





















