গণভোটের সুস্পষ্ট গণরায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর: আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণভোটের মধ্যে দিয়ে সংস্কারের ব্যাপারে যে সুস্পষ্ট গণরায় প্রকাশিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলসমূহের। আর রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারবদ্ধ।’
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ ছাড়া বিফ্রিংয়ে তিনি ক্ষমতাসীন দল, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রতিনিধিত্বকারী দলসমূহ এবং সংসদের বাইরেও যেসব রাজনৈতিক দল আছে, তাদের সবার প্রতি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘গণভোটের গণরায়’ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকরা অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং দ্বিধাহীনভাবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব সমূহের অনুকূলে তাদের রায় দিয়েছেন। এই রায় থেকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের নাগরিকদের বৃহদাংশ আর পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা বহাল রাখতে চান না। তারা চান পরিবর্তন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার।’
গণভোটের আগে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়ার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক সিদ্ধান্ত বা একক শাসনের মাধ্যমে টেকসই হবে না। জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকেই।’
‘তাই দেশের ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় হলো গণতান্ত্রিক পথের মূল ভিত্তি। এই লক্ষ্যেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারের দিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে। জনগণ আমার আহবানে সাড়া দিয়েছেন। সংস্কারের পক্ষে জনরায় এসেছে,’ বলেন তিনি।
গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে কেবল সংখ্যার বিবেচনায় দেখলেই হবে না উল্লেখ করে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘জনগণের এই রায় হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা অকুতোভয়ে লড়াই করেছেন, তারা আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তার স্বীকৃতি। সার্বভৌম জনগণের যে অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছিল ২০২৪ সালে, গণভোটের মধ্যে দিয়ে এই রায় পুনর্বার প্রকাশিত হলো। আমাদের এই বিষয়গুলো বিস্মৃত হবার সুযোগ নেই।’

















