ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বেড়ে ৫ গুণ, দ্বিগুণ হলো ব্যয়সীমাও

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
নির্বাচন ভবন। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য জামানত ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য প্রার্থীর জন্য জামানত পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত পাঁচ হাজার টাকা ও সদস্য প্রার্থীর জামানত ছিল এক হাজার টাকা। সে হিসাবে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বেড়ে হয়েছে পাঁচ গুণ। জামানত রক্ষায় প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করেছে ইসি। আর সদস্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। এর আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ও সদস্য প্রার্থী সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা খরচ করতে পারতেন। সে হিসাবে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমাও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।

এসব বিধান যুক্ত করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে ইসি। এতে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হুমকি, ভীতি-প্রদর্শন ও বাধাদানের শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে জামানত হিসাবে ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান বা পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুকূলে জমা দিতে হবে।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ভোট পেলে জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করে সরকারের অনুকূলে জমা করতে হবে। এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনের ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে তা না নিলে ওই অর্থ অফেরতযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এর আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতো।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ও সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে পাঁচ লাখ টাকা ও এক লাখ টাকা। বিধিমালা বলছে, কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি খরচ কর তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করবেন।

সর্বোচ্চ সমান ভোটে পুনর্নির্বাচন

সংশোধিত বিধিতে বলা হয়েছে, ভোট গণনার পর দুই বা ততোধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সমান ভোট পেলে কমিশন সর্বোচ্চ সমান ভোট পাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ফের ভোট নিতে রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেবে।

এদিকে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি-প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো ধরনের ‘অপকর্মের দ্বারা’ চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে বলে নিশ্চিত হলে কমিশন সেই ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। এ ধরনের ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশনাও দিতে পারবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement