নকলের কবর দিয়েছি, এখন ঠেকাতে হবে ডিজিটাল নকল: শিক্ষামন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৬: ০৯
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রচলিত নকলের যুগ শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে ‘ডিজিটাল নকল’ সামনে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এটিকে উপযুক্ত উপায়ে প্রতিরোধ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পরপরই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নকল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নকল শব্দটির কবর আমরা অনেক আগেই দিয়ে এসেছি। এটি নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। কিন্তু এখন নকল হচ্ছে ডিজিটালি, সেটাকে সেভাবেই প্রতিহত করতে হবে।’

শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক তৈরি হয়েছে। ‘আমাদের দেশে শুধু উচ্চশিক্ষা আর উচ্চশিক্ষা। সবাই অনার্স খুলতে চায়। এর কী দরকার?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব বোর্ডের খাতা এলোমেলোভাবে পুনরায় যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি। এতে কেউ অতিরিক্ত বা কম নম্বর পেয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় না রেখে দ্রুত কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ফলের পর দীর্ঘ বিরতি দিলে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা হতে হবে স্মার্ট, তথ্যভিত্তিক, সহনশীল, মূল্যবোধনির্ভর এবং আনন্দমুখর।

পড়াশোনার সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ বছরে স্কুলে ভর্তি হয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে ২০ বছর সময় ব্যয় করছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে একই স্তরের শিক্ষা শেষ হতে ১৮ বছর লাগে। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে আগেভাগেই পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও স্নাতক শিক্ষা নিয়েও সংস্কারের ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও নিয়মের মধ্যে আনা হবে এবং চার বছরের স্নাতক কোর্স চার বছরেই শেষ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নিয়মের বাইরে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি/আরআইআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement