‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম বদলে হলো ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’

দেশের জাতীয় সংসদকে যুগোপযোগী ও ই-পার্লামেন্টে রূপান্তরের লক্ষ্যে হাতে নেওয়া প্রকল্পের নাম বদলে দিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। ‘ই-পার্লামেন্ট’ থেকে প্রকল্পের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের এ নাম দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সংসদ সচিবালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রথম বৈঠকেই প্রকল্পের অধীন বিভিন্ন কাজে পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) আছে কি না, তা যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উপকমিটির সদস্যরা হলেন— সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনজ। উপকমিটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সভায় প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের বলেন, নাগরিকেরা যেন সরাসরি সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, সে জন্য কাগজনির্ভর সংসদের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়তে চাই। এর মাধ্যমে সংসদের অধিবেশন, বিল ও আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে নাগরিকেরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ই-পার্লামেন্টের তথ্য ও উপাত্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলায় ওয়েবসাইট, পোর্টাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউএনডিপি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময়ে সাইবার নিরাপত্তার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় হালনাগাদও করেনি। ফলে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে।
কমিটির সদস্য হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।













