ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়াসা— দেশের ৬৫৪৪ ভবনে বসছে সোলার প্যানেল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ছাদে সোলার প্যানেলের প্রতীকী ছবি। (ইনসেটে) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ছাদে সোলার প্যানেলের প্রতীকী ছবি। (ইনসেটে) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৈশ্বিক বৈরী পরিস্থিতিসহ বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ চাপ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় এসব ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতের প্রসারের পাশাপাশি সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগানো হবে এ প্রকল্পে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং সরকারি খাতের প্রতিটি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রকল্পটির দ্রুত ও মসৃণ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রাথমিক ৩৭০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ বরাদ্দও ছাড় করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়াসা কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবন, দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনাকেও কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সরকারি অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এসব প্রতিষ্ঠানের খালি ছাদে আধুনিক সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে আমরা প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড ও স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য যোগ করতে পারব। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে কর্মসূচিটির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যেই সমগ্র কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement