মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা: তিন মামলায় আসামি ৫০০, গ্রেপ্তার ২৬

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার বাদী পুলিশ। মামলাগুলোতে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও মুখপাত্র মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হকার উচ্ছেদের সময় ডিশ লাইনের তার খুলে ফেলার একপর্যায়ে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ হলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনের পর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একটি পুলিশের গাড়ির কাচও ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের খবর পেয়েছি৷ সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুনের ঘটনাও আছে।’

পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাজে যারা বাধা দেয়, তারা ফ্যাসিহজমের দোসর। এ ছাড়া সাংবাদিক, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলাকারীরাও ফ্যাসিবাদের দোসর। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গা দখল করে আছে৷ কাউকে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না।’

ঘটনার পর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসব অভিযানে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় করা তিন মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement