৩ মামলায় গ্রেপ্তার, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন কারাগারে

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে একটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানায়, যে তিনটি মামলায় ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেগুলো ফটিকছড়ি থানার। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা গত জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়। অন্যটি আজ বৃহস্পতিবার করা মামলা। এ ছাড়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অন্য এক আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইমনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। আজ কোনো রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। পরবর্তীতে করা হবে। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।’
মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামে জোড়া খুনসহ অন্তত ১৮টি মামলার আসামি। বুধবার ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘ইমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি এক দিনের নয়। গত ১৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য কাজ শুরু করে। সে হিসেবে গত ২২ জুলাই মাসুদ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি ইলিয়াছকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়।’
মাসুদ আলম আরও বলেন, ‘ঢাকা থেকে ইমন খুলনার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সে হিসেবে ওইদিন পদ্মাসেতু টোল প্লাজায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় চেক পোস্ট বসানো হয়। খুলনার রূপসা এলাকতেও চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। কিন্তু তারা গোপালগঞ্জ থেকে খুলনার দিকে না গিয়ে রুট পালটে নড়াইলের দিকে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যশোরের পুলিশ সুপারকে জানানোর পর তিনি সেখানে একটি দল ঠিক করেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।’
এই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। ইমনকে যেসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয় তার মধ্যে এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলাটিও ছিল।










-ca1d05-256x144.webp)

-7d5d00-256x144.webp)




