দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ০০
আদালত প্রাঙ্গণে এমপি গাজী নজরুল। ফাইল ছবি
আদালত প্রাঙ্গণে এমপি গাজী নজরুল। ফাইল ছবি

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর রোববার রাতেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

সেদিন রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করা হয়।

ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাদের ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।

মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বিছানার ওপর হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট দেখতে পান বাবা মাসুম বিল্লাহ। রোববার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় মরিয়মের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তে’র একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওটি প্রকাশের পর ‘নৈতিক স্খলনের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তবে তিনি এখনো সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনেও তিনি যোগ দেননি।

গাজী নজরুল ইসলামের ওই ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ওই জামিননামা জমা দেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement