মাদরাসার বাথরুমে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ, শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মো. আব্দুল্লাহ নামে নিহত ওই শিশুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোরের দিকে ওই শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে রামপুরা থানা পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশু আব্দুল্লাহর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায়।
রামপুরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে বনশ্রীর ‘সি’ ব্লকের তিন নম্বর রোডে অবস্থিত ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’ কর্তৃপক্ষই তাদের খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে মাদরাসার তিন তলার বাথরুমের ভেতর থেকে গামছা পেঁচানো অবস্থায় আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুর শরীরে বাহ্যিক কোনো ধরনের জখম বা আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে সুরতহাল করার সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক ও গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখা গেছে।
সুরতহাল প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে সম্ভবত অত্যন্ত নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর সম্ভাব্য তিনটি কারণ বিবেচনায় রেখেছে পুলিশ— যৌন নির্যাতনের ফলে শিশুটির মৃত্যু হলে তাকে বাথরুমে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, অপরাধ ঢাকতে তাকে নির্যাতন শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা বলাৎকারের শিকার হওয়ার পর শিশুটি আত্মহত্যা করেছে।
এসআই সাইফুল জানান, সার্বিক আলামত বিশ্লেষণ করে শিশু আব্দুল্লাহর মৃত্যুর সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রামপুরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি মৃত্যুর আগে সে কী ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।



















