নিউমার্কেটে গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন: পুলিশ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে তার নাম ছিল। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক।
ব্যবসায়ী বাবর এলাহীসহ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন টিটন। বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড সাজাও দিয়েছিলেন আদালত। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্তর্কোন্দলের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ক্যাপ ও মাস্ক পরিহিত অন্তত দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করেন। পথচারীরা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধারের সময় টিটনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ওই সময় ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত ব্যক্তির মাথাসহ শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। তার মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শতকের নব্বইয়ের দশকে টিটন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য থেকে পরিণত হন শীর্ষ সন্ত্রাসীতে। একসময় অস্ত্র ব্যবসাতেও জড়িয়ে পড়েন। একাধিক হত্যাকাণ্ড তার নেতৃত্বে সংঘটিত হয়।
২০০৪ সালে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন টিটন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেন আদালত। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি জামিন পেয়ে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান।



















