গণহত্যায় জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় নয় : সারজিস

রাজশাহী ব্যুরো

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউণ্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘পুলিশ হোক বা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ পরিচয় যা-ই হোক গণহত্যায় যারা সরাসরি জড়িত ছিল তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যদি ডকুমেন্ট থাকে তাহলে আমাদের কাছে তার একমাত্র পরিচয় একজন খুনি, হত্যাকারী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘শহীদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৬২ জন শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪২ জনের পরিবারের প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

২৪ এর অভ্যুত্থানে শহীদদের লাশ উত্তোলন করা যাবে না উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচারের জন্য যদি ডেডবডি কবর থেকে তোলা না হয়, তাহলে এই চব্বিশের অভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশ আনতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছে—কেন তাদের লাশ উত্তোলন করতে হবে? তাই চব্বিশের অভুত্থানে যারা শহীদ হয়েছে তাদের হত্যা মামলার জন্য কারও লাশ উত্তোলন করা যাবে না। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচারিক যে মন্ত্রণালয় রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলকে একটি কথা বলে দিতে চাই—যে ভাইয়ের জীবনের রক্তের ওপরে ওই চেয়ারে আপনারা বসে রয়েছেন, আপনারা কোনো দিন চার মাস পর তাদের লাশ উত্তোলন করতে পারেন না।’

বাংলাদেশকে একটি দেশের (ভারত) কাছে ইজারা দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-র পরে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করে দিয়েছিল মন্তব্য করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি দেশ (ভারত) তাদের ইচ্ছেমতো করে দিয়েছে। এই বাংলাদেশের সামগ্রিক কাঠামো তাদের ইচ্ছেমতো। খুনি হাসিনা নির্লজ্জের মতো বাংলাদেশে উপস্থিত থেকে বলে, সে নাকি ভারতকে যা দিয়েছে ভারত সারাজীবন মনে রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা পিপাসু নই, বিবেকবোধের জায়গায় যদি আমাদেরও মনে হয়, আপনারা এই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূসও যদি হয়, আমরা তাকেও ছেড়ে কথা বলবো না। আমরা বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া ওই প্রজন্ম না। বিবেকবোধ বেঁচে দেওয়া ওই প্রজন্ম হলে ভারতের দালালি করতাম। কিন্তু আমরা তা করি নাই, করবো না। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, পৃথিবীর যে কোনো দেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার। কেউ বিন্দুমাত্র ডমিন্যান্ট করার চেষ্টা করলে তার সাথে চোখ রাঙিয়ে কথা হবে, পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া হবে।’

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, ‘আপনাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক কী হবে সেটা আপনারা আপনাদের কাজের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন। হাসিনা এতগুলো মানুষকে খুন করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যে দেশে গেছে, বাংলাদেশের মানুষের দ্বারা তাড়িত হয়ে যাওয়া সেই খুনি হাসিনাকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। যদি এই বাংলাদেশের সাথে আপনারা সম্পর্ক স্থাপন করতে চান, খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিন। তার বিচার এই বাংলাদেশের মানুষ করবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল আমাদের এই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ভুলে গিয়ে যদি ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকে, সেটা যদি নাহিদ, আসিফ, সারজিস, হাসনাতও হয় আপনারা তাদের বিরুদ্ধেও কথা বলবেন। এই বাংলাদেশে আর যেন কোনো ক্ষমতাপিপাসু নরপিশাচের জায়গা না হয়।’

এখনো আওয়ামী লীগের অনেক নেতা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সারজিস বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের চার মাস পেরিয়েছে। খুনি হাসিনার অন্যতম দোসর নাটোরের খুনি এমপি শিমুল আজও আমাদের সামনে রয়েছে। আজও পাবনার সাঈদ চেয়ারম্যান, এই বাংলাদেশে তার অস্তিত্ব রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই খুনিরা প্রকাশ্যে আমার ভাইদের পুড়িয়ে মেরেছে, গুলি করে হত্যা করেছে। যে শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকে আপনারা উপদেষ্টা, পুলিশ সুপার, আইজিপি, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের রক্তের সাথে এই বেইমানি কীভাবে সম্ভব?’

সারজিস আলম বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল খুনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে টাকার বিনিময়ে বাঁচানোর জন্য ব্যাকডোরে নেগোশিয়েশন করছে। এই যে মামলা বাণিজ্য, এতে রাজনৈতিক দল যেমন জড়িত রয়েছে তেমনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও জড়িত রয়েছেন। নতুন বাংলাদেশেও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় মামলাবাণিজ্য করছে।”

পুলিশ দায়িত্বশীল হলে আগামী ছয় মাসেই বাংলাদেশ ঠিক হয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের দালালি আপনাদের কাছ থেকে আমরা প্রত্যাশা করি না। আপনারা এটা করবেন না।”

অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহরাব সিফাত, মোবাশ্বেরুজ্জামান, মাহিন সরকার, ‍রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আলমগীর রহমান বক্তব্য রাখেন। এসময় অন্যদের মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ শহীদদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মেঘনার ওপর ১৭৮ কোটি টাকার সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

হাওর অঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার কারণে সারা বছর সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। সেতুটি নির্মিত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

১০ ঘণ্টা আগে

অষ্টগ্রামে মাছ কেনা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদমপুর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী শিব্বির আহমেদ ও একই গ্রামের বাছির মিয়ার মধ্যে মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন বাজারে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

১ দিন আগে

স্কুলের বাথরুমে হাত-পা-মুখ বাঁধা ছাত্রী উদ্ধার, শরীরে ব্লেডের জখম

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় স্কুল ছুটি হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাথরুম থেকে শব্দ শুনতে পেয়ে নির্মাণ শ্রমিকেরা সেখানে যান। পরে তারা বাথরুমের দরজা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেন।

১ দিন আগে

নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলন নেতা হত্যা: মহাসড়ক অবরোধের ২ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার

বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। যে এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, সেটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

১ দিন আগে