রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট শেষ, অপেক্ষা অনুমোদনের

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ শুরু করতে এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ইউনিটটির বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম শেষ হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই ইউনিটটি ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান।
তিনি বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলে সি স্টেজে প্রবেশের পর পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হবে।
জাহেদুল হাসান আরও জানান, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে এই ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে এগোতে প্রতিটি ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া বাধ্যতামূলক।
পারমাণবিক বিদ্যুতের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ এ ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হবে।
রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মাণাধীন কেন্দ্রটির কাজ বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।














