বাড়িতে ঢুকে নারীর চুল কেটে, শরীরে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এক নারীর বাড়িতে গিয়ে তার চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নারী রাতেই থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আবদুর রশিদ নামের স্থানীয় আরেক ব্যক্তির তাদের সহযোগিতা করেছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে বসে ছিলেন, আর তার ছেলে ঘুমাচ্ছিলেন। এর মধ্যে নারায়ণপুর গ্রামের আবদুর রশিদ সেখানে গিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে তার সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন। কিছুক্ষণ পর আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে বাড়িতে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই নারীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে চুল কেটে দেন এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দেন।
মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় ছেলের। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। পরে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন তিনি। সেদিন রাতেই সদর থানায় এজাহার জমা দেন।
নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, ‘আমরা জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর বানাচ্ছি। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামীর টাকায় আমরা এই কাজ করছি। আমরা হিন্দু মানুষ বলে বাড়ির ওপর এসে এভাবে নির্যাতন করেছে।’
ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বলেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ধরে রেখে গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে। আবদুর রশিদ উপস্থিত থেকে আমার মা ও আমাকে নির্যাতন করেছে।’
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আনোয়ারের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা মিলে ওই নারীর ওপর হামলা করেছেন। ওই নারী হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তার বাড়িতে গিয়ে এভাবে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, আবদুর রশিদ এলাকায় নিজেকে বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দিলেও দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, মামলা হওয়ার খবর পেয়ে তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে গেছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওই নারীর করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে রয়েছেন। স্থানীয় আরও একজনকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।













