দেশে সারের সংকট নেই, অগ্রিম কিনবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সারা নিয়ে সারা দেশে নানা কাণ্ড ঘটতে থাকলেও সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ কারণে কৃষকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা কেউ যেন অগ্রিম বা বাড়তি সার না কেনেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার সরকারের হাতে মজুত রয়েছে। দেশের ১৩৩টি গুদাম ও ৩৩টি বাফার গুদামে সার সংরক্ষিত আছে। তাই সার নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম আরও বলেন, কোন ফসলের জন্য কখন কতটুকু সার প্রয়োজন, তার হিসাব সরকারের কাছে রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে ডিলার ও খুচরা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার, ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সার নিয়ে যে সংকট দৃশ্যমান, এর পেছনে কৃষকদের আগাম সার কেনাকে দায় দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সামনে আলু ও রবি শস্যের মৌসুম। তাই কৃষকদের কেউ কেউ আগাম টিএসপি ও ডিএপি সার কিনছেন। কিন্তু অগ্রিম সার কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। এতে বাজারে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী যথাসময়ে সার সরবরাহ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু কৃষক অগ্রিম সার কিনতে যাওয়ায় এবং কয়েকজন ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার উত্তোলন ও বিতরণে বিলম্বকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সৃষ্ট ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কোনো সার ডিলারের ডিলারশিপ বা লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে না বলেও সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার বিতরণ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তা দূর করতে গতকাল (মঙ্গলবার) পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলাররাই সার উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কোনো ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে না।
গত সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন বলেও জানান শাহে আলম। বলেন, সার সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ওই কমিটি।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



















