রাবিতে আওয়ামীপন্থী তিন ডিনের কার্যালয়ে তালা

রাজশাহী ব্যুরো
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭: ১৫
রাবিতে আওয়ামীপন্থী তিন ডিনের কার্যালয়ে তালা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে তিনটি অনুষদের ডিন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে রাকসুর প্রতিনিধিরা। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অফিস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

তালা ঝুলানো অনুষদগুলো হলো— কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং আইন অনুষদ। অভিযুক্ত ডিনরা হলেন- আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ।

এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, আওয়ামী লীগ গেলি কই’, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি আকিল বিন তালেব বলেন, অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আমাদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কর্মী বাহিনীর হাতে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এটি গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির জন্য সরাসরি হুমকি।

তিনি আওয়ামী লীগকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকার ন্যূনতম যোগ্যতাও আওয়ামী লীগ হারিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আওয়ামীপন্থীদের রাখা হয়েছে। সিনেট অকার্যকর থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ছয়জন আওয়ামীপন্থী ডিন রয়েছেন। তারা এখান থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। আমরা ক্যাম্পাসে আওয়ামীপন্থী কোনো শিক্ষকের পুনর্বাসন মেনে নেব না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইফতেখার আলম মাসউদের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে আকিল বিন তালেব বলেন, ‘এক বছর আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুষেছি, আরও এক মাস পুষবো’— এমন কথা বলার অধিকার উনার কে দিয়েছে?

এদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আজ প্রায় সব দপ্তরে আওয়ামীপন্থী ডিনদের কার্যালয় তালাবদ্ধ। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকুক— এটাই আমাদের দাবি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একটি তালিকা করেছি। ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য সংগঠনের কাছেও অনুরোধ— আপনারা আপনাদের তালিকা আগামী তিন দিনের মধ্যে দিন।”

পদত্যাগ প্রসঙ্গে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি ডিন হিসেবে দায়িত্বে থাকতে চাই না। উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত উপাচার্যই নেবেন।”

কর্মসূচিতে সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি, রাকসু প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন। রোববার বিকেলে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে রাকসু প্রতিনিধি ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “উপাচার্য আগামীকাল সকাল ৯টায় মেয়াদ শেষ হওয়া ছয়জন ডিনকে ডেকেছেন। ওই বৈঠকেই তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement