লালনের মাজারে উদ্ধার সরঞ্জামগুলো ‘টাইম বোমা’র অংশ: পুলিশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল, ধাতব ক্যানিস্টার ও বৈদ্যুতিক তারযুক্ত ডিভাইস উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল, ধাতব ক্যানিস্টার ও বৈদ্যুতিক তারযুক্ত ডিভাইস উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাউল ফকির লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল, ধাতব ক্যানিস্টার ও বৈদ্যুতিক তারযুক্ত যে ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ‘সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা’র অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর সঙ্গে গত জুলাইয়ে ঢাকার মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে পাওয়া বোমাটির প্রযুক্তিগত মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে মাজারের প্রবেশপথের ডান পাশে একটি নারকেলগাছের কাছ থেকে সন্দেহজনক ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয়। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, মাজার প্রাঙ্গণে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ পড়ে থাকার খবর পেয়ে থানার সদস্যরা সেখানে যান। নিরাপত্তার স্বার্থে মাজারে আসা সাধুদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পুলিশ পরিদর্শক মোদাচ্ছের কায়সারের নেতৃত্বে দলটি তল্লাশি চালিয়ে দুটি ছোট বোতলে পেট্রোল, আধা ইঞ্চি চওড়া ও চার ইঞ্চি লম্বা দুটি ধাতব ক্যানিস্টার এবং বিদ্যুতের তারযুক্ত একটি ডিভাইস উদ্ধার করে। তবে কে বা কারা ডিভাইসটি রেখে গেছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো তথ্য জানায়নি।

সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওটা একটা টাইম ইনিশিয়েটেড বোম্ব। ওখানে একটা টাইমার ও ব্যাটারি ছিল। আর স্মোক বোম্ব হিসেবে পার্টিতে ব্যবহৃত সৌখিন বিস্ফোরকের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টারের ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে সেটিকেই বোমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে দুই বোতল পেট্রোলও রেখে দেওয়া হয়েছিল যাতে বিস্ফোরণে সেখানে একটা বড় আগুন তৈরি হয়।”

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা ঢাকার মেট্রো স্টেশনে ছাতার মধ্যে যেরকম বোমা পেয়েছিলাম, প্রযুক্তিটা একই রকম। তবে ঢাকার মেট্রো স্টেশনের বোমার শেল (খোল) হিসেবে জিআই পাইপ ব্যবহার করা হয়েছিল, এই পাইপ বিস্ফোরিত হলে অনেক শক্তি নিয়ে স্প্লিন্টার হিসেবে চারদিকে আঘাত করে। আর এখানে খেলনা স্মোক বোমের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এটা (কুষ্টিয়ার বোমা) আনাড়ি হাতের কাজ হতে পারে, তবে প্রযুক্তিটা ছড়িয়ে পড়ছে— যা আমাদের সকলকে ভীষণ ঝুঁকিতে ফেলছে।”

এর আগে গত ২৬ জুলাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘উল্টো রথযাত্রা’ চলার পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর পাইপ বোমা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

ওই ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ এবং তার অনুসারীরা বোমাটি তৈরি করে মেট্রো স্টেশনের নিচে রেখে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাভার থেকে বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ মামুনের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামুনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement