বাইমাইল নয়, তাঁতীবাজার থেকে পালিয়েছিলেন ‘পিচ্চি রাজা’— ২ পুলিশ গ্রেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত
প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র (৩০) প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে তার পলায়নের খবর প্রকাশ্যে এলেও এবার গেল, তিনি পালিয়েছিলেন তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই। গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুজন হলেন— প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার ও ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।

পুলিশ ও কারা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে রাতে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।

ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আসামি বহনকারী গাড়িটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) পিচ্চি রাজাকে শৌচকর্ম করানোর জন্য নিচে নামান। ওই সময়ই তিনি কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে সাত দিন পার হতে চললেও পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে এই পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য তিনজনকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটি বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আসামি যে স্থান থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রথমে বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পালানোর স্থান নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। ঘটনার প্রকৃত স্থান ও কীভাবে আসামি পালিয়ে গেলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘প্রিজন ভ্যানে কারাগার থেকে আদালত ও আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত যাত্রাপথে কোথাও থামার সুযোগ নেই। বড় বিপদ হলে নিকটবর্তী থানায় থামাতে হবে। প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা পুলিশ যে স্থানে থামানোর কথা বলছে, সেখানে থামানোর প্রশ্নই ওঠে না। ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষণের কাজ শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।’

মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে থাকা গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘একেক পুলিশ একেক তথ্য দিলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, সে (পিচ্চি রাজা) ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে পালিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, ঘটনার সঙ্গে তারা দুজন (দুই পুলিশ) জড়িত রয়েছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। বিষয়টির আরও তদন্ত চলছে।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement