ফেনীর ফুলগাজীতে শতবর্ষী মন্দির ভাঙার প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ, আহত ৫

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় শতবর্ষী একটি মন্দির ভাঙচুরের প্রতিবাদ করায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার বণিকপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলার বণিকপাড়ায় প্রায় শতবর্ষ আগে প্রতিষ্ঠিত 'দোল মন্দিরে' দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পূজা-অর্চনা করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে মন্দিরের জায়গা নিজেদের দাবি করে সেটিকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় সজীব বণিক, স্বরুপ বণিক, ঝুমুর বণিক, নুপুর বণিক ও রূপায়ন বণিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মন্দির ভাঙতে শুরু করেন।
তবে মন্দিরের দেখভাল করা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সঞ্জিব বণিককে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ছাড়া বণিক পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে সঞ্জিব বণিক, অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক, শিল্পী চৌধুরীসহ মোট পাঁচজন আহত হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জিনা বণিক বাদী হয়ে সজীব বণিক, স্বরুপ বণিকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, "ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দা শুভাস বণিক দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা মন্দিরের জায়গা জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে তারা প্রায়ই বণিক পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।
তিনি আরও বলেন, শনিবার দুপুরে কয়েকজন এসে মন্দিরের পেছনের অংশ ভাঙতে শুরু করলে প্রথমে সঞ্জিব বণিক বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সজীব বণিক ও স্বরুপ বণিক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালান। এতে বণিক পরিবারের সদস্যরা আহত হন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার আগে শতবর্ষী মন্দিরটি ভেঙে ফেলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
আহতদের প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

















