তেলের বাজার আরও অস্থির, ব্যারেল ১২০ ডলারের পথে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৩
তেলের ব্যারেল। প্রতীকী ছবি
তেলের ব্যারেল। প্রতীকী ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাবে বিশ্ব জুড়ে এই অস্থিরতা আরও তীব্র হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এই রুটটি বন্ধ থাকায় হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আজ ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে পরক্ষণে কিছুটা কমে ১১২.৯৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হালকা ও মিষ্টি অপরিশোধিত তেল বা ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম একসময় ১১৯.৪৮ ডলারে পৌঁছানোর পর বর্তমানে ১১০.১৭ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। এক দিনে তেলের এমন ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা রাইস্টাড এনার্জি জানায়, বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে এই রুটটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো এই প্রণালির মাধ্যমে তেল পাঠায়। বর্তমানে প্রাণহানি ও জাহাজ ধ্বংসের ভয়ে ট্যাংকার চলাচল প্রায় স্থবির। রপ্তানি করতে না পারায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও সংকটে পড়েছে।

ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, কারণ জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় স্টোরেজ ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া, যুদ্ধের শুরুতে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একাধিক তেল ও গ্যাস শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরবরাহ চেইনকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, যদি দ্রুত যুদ্ধবিরতি না ঘটে বা সরবরাহ পথ স্বাভাবিক না হয়, তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে, এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে যার নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
তেলের বাজার আরও অস্থির, ব্যারেল ১২০ ডলারের পথে