ট্রাম্পের ঘোষণায় তেলের বাজারে দরপতন, বেড়েছে ইয়েনের দাম

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনেই ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ মুদ্রা হস্তক্ষেপের ঘোষণার পর শক্তিশালী হয়েছে জাপানি ইয়েন। তবে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরুর ঘোষণার পর বাজারে এমন প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতে সম্ভাব্য সামরিক হামলাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে আসে। তেলের দাম কমার ইতিবাচক প্রভাবে মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচারও ঊর্ধ্বমুখী হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ও ন্যাসডাক ফিউচার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় বাজারের ফিউচারও প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
তবে এশিয়ার বাজারে চিত্র ছিল ভিন্ন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের সম্ভাব্য মুনাফা নিয়ে উদ্বেগ ও জুলাই জুড়ে তীব্র অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ২ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। জাপানের বাইরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এমএসসিআই সূচকও প্রায় ১ শতাংশ হারায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে দুই দেশ যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। এর পরপরই ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৫৬ দশমিক ৪৭-এ দাঁড়ায়।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়া ইয়েনকে সহায়তা করতে এই বিরল যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এমন হস্তক্ষেপ করা হবে।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বৈশ্বিক ডলার তারল্য নিশ্চিত করতে ফেডারেল রিজার্ভের রিপারচেজ (রেপো) সুবিধার পরিসর আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, ‘যৌথ হস্তক্ষেপ’ শব্দ দুটি বাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় এবং এটি খুব কমই দেখা যায়। তার মতে, ইয়েন সম্ভবত চলতি বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান এরই মধ্যে অতিক্রম করেছে। ওই পর্যায়ে আর এটি নামবে না।
রোববার ট্রাম্পও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে সহায়তা করতে ও মিত্র দেশ হিসেবে জাপানের পাশে দাঁড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, শুধু বাজারে হস্তক্ষেপে দীর্ঘমেয়াদে ইয়েনকে শক্তিশালী রাখা সম্ভব হবে না। এর জন্য জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসহ মৌলিক অর্থনৈতিক নীতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

















