অক্টোবরে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ

সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ৪.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৬ মাসের বাজার থেকে সংগৃহিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সিএফ-এর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির সরেজমিন বাজার তথ্যে দেখা গেছে, অক্টোবর মাসে মোট ১৫ ধরনের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাছের, যার হার ১১.৭২ শতাংশ। এছাড়া মসলাজাতীয় পণ্যে (লং, এলাচ, দারুচিনি, জিরা) ১০.৩০ শতাংশ এবং পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম ৭.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলে ৬.০২ শতাংশ, চিনিতে ৪.৯৩ শতাংশ, ভোজ্যতেল ও ডালডায় ৪.৮০ শতাংশ, চালে ২.৬২ শতাংশ, আটা-ময়দায় ৩.২৫ শতাংশ, ডিমের দামে ১.৪২ শতাংশ, চায়ের দামে ০.১৪ শতাংশ এবং মাংসের দাম ০.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এর বিপরীতে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-টুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, ১১টি ব্র্যান্ডের নিত্যব্যবহৃত ওষুধ এবং খাতা-কলমের মতো ৭টি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। আর শাকসবজির দাম ৩.১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪.৭৭ শতাংশ কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে শীতকালীন শাকসবজি উঠতে শুরু করায় কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না বলে জানানো হয়। ঢাকার বাজারে ফুল ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা ও কাঁচকলার হালি ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ঢাকার বাইরে উৎপাদক পর্যায়ে তা বেশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য ৩.১৩ শতাংশ বেড়েছিল। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—এই দুই মাস মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭.৫২ শতাংশ। লাগামহীনভাবে পণ্যমূল্য বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভোক্তা সংগঠনটি।
মধ্য ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শুধু বেতন-ভাতা বাড়ালেই চলবে না; বরং বাড়ি ও দোকান ভাড়া, শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরতে এবং গ্রামপর্যায়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম ভোক্তা পর্যায়ে সহনীয় রাখতে কার্যকর বাজার মনিটরিং ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে কনজুমারস ফোরাম।
উল্লেখ্য, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনাবাজার এবং স্বপ্ন সুপারশপ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।














-0306e9-256x144.webp)