৬৪ সংশোধনীসহ অর্থ বিল পাস সংসদে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সংসদ অধিবেশন কক্ষ। পিএমও ফাইল ছবি
সংসদ অধিবেশন কক্ষ। পিএমও ফাইল ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য উত্থাপিত অর্থবিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। জনমত যাচাইয়ে পাঠানোর প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর এতে এসেছে ৬৪টি সংশোধনী।

সোমবার (২৯ জুন) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি ভোটের জন্য দেন। কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে বিলটি পাস হয়।

অর্থবিলে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত— ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা। এর ফলে আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি প্রস্তাব সংশোধনের সুপারিশ করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধিত আকারে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করলে সংসদ তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেয়।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে অর্থবিলে। ফলে আগের মতোই টিআইএন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে।

সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন ও নামজারির ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে জমি নিবন্ধনে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসন নামে অর্থবিলে একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল। এটি ‘কালো টাকা’ বৈধ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে— এমন সমালোচনার মুখে পুরো বিধানই প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে জমি নিবন্ধন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১০ শতাংশ আয়কর বহাল রাখা হলেও সংশোধনীতে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সোনা, রুপা, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের ভ্যাট কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব অলংকার কেনার সময় উৎসে ৫০ পয়সা হারে কর কর্তনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে চিংড়ি শিল্প, ওষুধ শিল্প, বৈদ্যুতিক তার উৎপাদন, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো কিংবা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অর্থবিল পাসের আগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান, অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, মো. আলী আসগর, মো. আব্দুল গফুর ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেন।

এসব সংসদ সদস্য বিশাল ঘাটতি বাজেট, কর ও ভ্যাটের বোঝা, ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর থেকে ঋণের আশ্বাসের বাস্তবতার মতো নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিলটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পরে সংসদ সদস্যদের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বাকিগুলো কন্ঠভোটে বাতিল হয়ে যায়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement