নেত্রকোনায় ৪০ নারীর হাতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
নেত্রকোনার সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় ৪০ অসচ্ছল নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় ৪০ অসচ্ছল নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ৪০ অসচ্ছল নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সম্প্রতি পৃথক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এসব সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুলসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। এসব মেশিন নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়ার মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তারা ঘরে বসে কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের একজন মাহামুদা আক্তার। বারহাট্টার এই বাসিন্দা বলেন, ‘সেলাই মেশিনটি আমার কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, আমার সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব।’

অন্যদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের কার্যালয়ে আরও ২০ নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী, বসুন্ধরা শুভসংঘ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের একজন মিতু আক্তার নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা নেই। মা বিভিন্ন টেইলার্সে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকট কমাতে মিতুও মায়ের সঙ্গে কাজ করতে চান।

মিতু বলেন, ‘বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে মা-মেয়ে দুজনেই কাজ করে ভালো আয় করতে পারব। বসুন্ধরার সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন আমাদের সচ্ছলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ।’

সেলাই মেশিন পাওয়া আরেক নারী ইতি রানী দাসের স্বামী ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় স্বল্প বেতনে কাজ করেন। তার স্বামীর সীমিত আয়ে সংসারের সব খরচ মেটানো কঠিন। পরিবারের আয় বাড়াতে সেলাইয়ের কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি আশাবাদী।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement