আ.লীগ পুনর্বাসনে বিচারে কালক্ষেপণ, ভারতীয় তৎপরতা— অভিযোগ হাসনাতের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৫, ২২: ৫৩
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ‘ষড়যন্ত্র’ প্রত্যাখ্যান করে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফাইল ছবি

ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে জন্য নানা কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

সরকার পতনের ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাসনাতের অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখছে ভারতীয় হাইকমিশনসহ গোয়েন্দা সংস্থা। এর অংশ হিসেবেই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও গণহত্যার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ তোলেন হাসনাত। এর আগে আরেক স্ট্যাটাসেও তিনি বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

হাসনাত আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে লিখেছেন, ‘শুধু এ মাসেই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ও হাইকমিশন বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ও সামরিক পর্যায়ে অন্তত ২৩টি মিটিং করেছে। লিখে রাখেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের সুযোগ করে দিতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচারের নামে কালেক্ষপণ করা হচ্ছে।’

https://www.facebook.com/share/p/1Bxihfe69D/?mibextid=wwXIfr

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে না উল্লেখ করে হাসনাত লিখেছেন, ‘একপর্যায়ে গিয়ে বলা হবে, একসময়ের জনসমর্থিত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা আমাদের কাজ নয়।’

আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটিকে নিষিদ্ধ করতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘যার এজেন্ডায় গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিচার নাই, যার এজেন্ডায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নাই, তার সাথে আমরা নাই।’

হাসনাতের এই পোস্টের যথার্থতা নিশ্চিত হতে পারেনি রাজনীতি ডটকম। বিশেষ করে এ মাসেই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ও হাইকমিশনের বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ও সামরিক পর্যায়ে করা বৈঠকের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হাসনাতের পোস্টটি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে নেটিজেনদের। ৯ ঘণ্টায় এক লাখ ৬৬ হাজারের বেশি রিয়্যাকশন পড়েছে এই পোস্টে, মন্তব্য পড়েছে সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে সাত হাজার আট শ বার।

এর আগে এ দিন সকালে ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে হাসনাত বলেন, ‘খুনিকে দেশ থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, পুলিশ আসামি ধরলেও আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়। শিরীন শারমিনকে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে বাসায় গিয়ে পাসপোর্ট করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল জানুয়ারিতে হওয়ার কথা থাকলেও মে মাসে এসেও শুরু হয়নি। আর আপনারা বলছেন আওয়ামী লীগের বিচার করবেন?’

‘তা ইন্টেরিম, এখন পর্যন্ত কী কী বিচার ও সংস্কার করেছেন?— প্রশ্ন রেখে পোস্ট শেষ করেন হাসনাত।

হাসনাতের এই পোস্টের বিষয়বস্তুর মধ্যে অবশ্য দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এ দিন বিকেলের দিকে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয়েছে এ ট্রাইব্যুনাল। প্রথম ট্রাইব্যুনালটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও নতুন ট্রাইব্যুনালটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নাম দেওয়া হয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত জামায়াতের

বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই লক্ষ্যে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকেই বিরোধী দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

২ দিন আগে

জ্বালানি আমদানি বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ ‘দুনীতির নতুন লাইসেন্স’: জামায়াত

গোলাম পরওয়ার বলেন, “দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পর বিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হতে পারে।”

২ দিন আগে

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া ধীর না করে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে তা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

২ দিন আগে

অতীতের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সমস্যা তৈরি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পাল

২ দিন আগে