
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীর সূত্রাপুরে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালতে নাসরিন বেগম নামে এক নারী মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে সূত্রাপুর থানা-পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার বাকি আসামিরা হলেন—সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যসহ আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা আন্দোলনে নামে। গত ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলন নিয়ে বিরূপ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যে আসামিরা গত ১৫ জুলাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তাঁরা শিক্ষার্থীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, গুম, খুন করা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা সূত্রাপুর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের সামনে অবস্থান নেয়। তাঁদের সঙ্গে পুলিশ, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিও চালানো হয়। এতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন কাউসার ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওমর ফারুক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
ভাইরাল হওয়া এক পোস্টে একটি মন্দিরের ছবি জুড়ে দিয়ে দাবি করা হয়, এতে ‘বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা’ অগ্নিসংযোগ করেছে।
‘বিবিসি ভেরিফাই’য়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের নবগ্রহ মন্দির হিসেবে চিহ্নিত ভবনটি সহিংসতাচলাকালে অক্ষত ছিল। প্রকৃতপক্ষে আগুন জ্বলছিল এর কাছাকাছি থাকা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে। ঘটনার পর বিবিসির সংগ্রহ করা বিভিন্ন ছবিতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের মুখচ্ছবিসংবলিত পোস্টারের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
ওই মন্দিরের কর্মী স্বপন দাস বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘৫ আগস্ট দুপুরের পরে মন্দিরের পেছনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতর থেকে আসবাবপত্র বাইরে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন।’
তিনি জানান, ওই ঘটনার দিন মন্দিরে হামলা না হলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করায় সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দিন–রাত পালাক্রমে মন্দির পাহারা দিচ্ছেন।
এটি একই রকমের অনেক ঘটনার একটি উদাহরণ মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজর রাখা প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুদের বাড়িঘর–মন্দিরে মুসলিমদের হামলা—৪ আগস্টের পর থেকে এমন হ্যাশট্যাগের অধীন প্রচারণায় লাখ লাখ মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে, সেসবের অধিকাংশই ভারতীয়।
ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, একজন বাংলাদেশি হিন্দু ক্রিকেটারের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ে দেখা গেছে, সেটি মূলত আওয়ামী লীগের একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের বাড়ি।
আবার ওই এলাকার একটি স্কুল জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বিবিসি সেটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায়, এ হামলার পেছনে ধর্মীয় কারণের পরিবর্তে রাজনৈতিক কারণ ছিল। হামলা–আগুনসংক্রান্ত এসব পোস্টের সবই কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের অনেকগুলো হিন্দু জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধকে সমর্থন করে।
বাংলাদেশে ঘৃণাসূচক বক্তব্য ও মিথ্যা তথ্যের প্রচার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাঈদ আল–জামান বলেন, শেখ হাসিনার আকস্মিক বিদায়ে বিষয়গুলো আরেকবার সামনে এসেছে। কেননা সরকার ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে হিন্দুরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করেছেন।
ঘটনার মিথ্যা বর্ণনা এ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই সব ইনফ্লুয়েন্সার ভয়–আতঙ্ক ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছেন।’
হিন্দুদের মুসলিমদের নিশানা হওয়ার ভুয়া দাবিসংবলিত পোস্টগুলোর কিছু এসেছে বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে। এমন অ্যাকাউন্টধারীদের একজন টমি রবিনসন। যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত দাঙ্গায় উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঘটনাগুলো নিয়ে যাচাই না করা ভিডিও শেয়ার করছেন তিনিও। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘সেখানে (বাংলাদেশে) হিন্দুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা’ চলছে।’
টমির শেয়ার করা ভিডিওগুলোর একটি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বিবিসি। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী তার বাড়িতে হামলার ঘটনায় স্বামীর জীবন বাঁচাতে আকুতি জানাচ্ছেন। তার বাড়িতে ‘মুসলিমরা’ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয় পোস্টটিতে। এ ঘটনার এক দিন পর ৬ আগস্ট প্রকৃত ভিডিও শেয়ার হয়।
ঘটনাটির অনুসন্ধান করেছিল বিবিসি। ওই নারীকে তার বাড়ি রক্ষায় সহায়তা করা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একটি দল বিবিসিকে বলেছে, বাড়িটি নিয়ে যে বিবাদ ছিল সেটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তারা বিবিসিকে ওই বাড়ির ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করে। তাতেও দেখা যায়, বাড়িটির ভেতরে থাকা মন্দির অক্ষত রয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, ‘বাড়িটি নিয়ে জমির মালিকানা ঘিরে বিবাদ ছিল। বহু আগেই এ নিয়ে একটি মামলা হয়েছে।’ জমির মালিকানা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাটি স্থানীয় আদালতে প্রায় ছয় মাস বিচারাধীন ছিল।
স্থানীয় অন্যদের সঙ্গেও কথা বলেছে বিবিসি। তারা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে ধর্মীয় কারণে হামলা হয়নি। আর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, এ এলাকার অন্য কোনো হিন্দু পরিবার ও মন্দিরে হামলা হয়নি।
এ ব্যাপারে বিবিসি জানতে চাইলে টমি রবিনসন কোনো সাড়া দেননি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীর সূত্রাপুরে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালতে নাসরিন বেগম নামে এক নারী মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে সূত্রাপুর থানা-পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার বাকি আসামিরা হলেন—সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যসহ আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা আন্দোলনে নামে। গত ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলন নিয়ে বিরূপ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যে আসামিরা গত ১৫ জুলাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তাঁরা শিক্ষার্থীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, গুম, খুন করা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা সূত্রাপুর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের সামনে অবস্থান নেয়। তাঁদের সঙ্গে পুলিশ, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিও চালানো হয়। এতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন কাউসার ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওমর ফারুক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
ভাইরাল হওয়া এক পোস্টে একটি মন্দিরের ছবি জুড়ে দিয়ে দাবি করা হয়, এতে ‘বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা’ অগ্নিসংযোগ করেছে।
‘বিবিসি ভেরিফাই’য়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের নবগ্রহ মন্দির হিসেবে চিহ্নিত ভবনটি সহিংসতাচলাকালে অক্ষত ছিল। প্রকৃতপক্ষে আগুন জ্বলছিল এর কাছাকাছি থাকা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে। ঘটনার পর বিবিসির সংগ্রহ করা বিভিন্ন ছবিতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের মুখচ্ছবিসংবলিত পোস্টারের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
ওই মন্দিরের কর্মী স্বপন দাস বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘৫ আগস্ট দুপুরের পরে মন্দিরের পেছনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতর থেকে আসবাবপত্র বাইরে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন।’
তিনি জানান, ওই ঘটনার দিন মন্দিরে হামলা না হলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করায় সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দিন–রাত পালাক্রমে মন্দির পাহারা দিচ্ছেন।
এটি একই রকমের অনেক ঘটনার একটি উদাহরণ মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজর রাখা প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুদের বাড়িঘর–মন্দিরে মুসলিমদের হামলা—৪ আগস্টের পর থেকে এমন হ্যাশট্যাগের অধীন প্রচারণায় লাখ লাখ মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে, সেসবের অধিকাংশই ভারতীয়।
ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, একজন বাংলাদেশি হিন্দু ক্রিকেটারের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ে দেখা গেছে, সেটি মূলত আওয়ামী লীগের একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের বাড়ি।
আবার ওই এলাকার একটি স্কুল জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বিবিসি সেটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায়, এ হামলার পেছনে ধর্মীয় কারণের পরিবর্তে রাজনৈতিক কারণ ছিল। হামলা–আগুনসংক্রান্ত এসব পোস্টের সবই কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের অনেকগুলো হিন্দু জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধকে সমর্থন করে।
বাংলাদেশে ঘৃণাসূচক বক্তব্য ও মিথ্যা তথ্যের প্রচার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাঈদ আল–জামান বলেন, শেখ হাসিনার আকস্মিক বিদায়ে বিষয়গুলো আরেকবার সামনে এসেছে। কেননা সরকার ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে হিন্দুরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করেছেন।
ঘটনার মিথ্যা বর্ণনা এ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই সব ইনফ্লুয়েন্সার ভয়–আতঙ্ক ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছেন।’
হিন্দুদের মুসলিমদের নিশানা হওয়ার ভুয়া দাবিসংবলিত পোস্টগুলোর কিছু এসেছে বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে। এমন অ্যাকাউন্টধারীদের একজন টমি রবিনসন। যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত দাঙ্গায় উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঘটনাগুলো নিয়ে যাচাই না করা ভিডিও শেয়ার করছেন তিনিও। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘সেখানে (বাংলাদেশে) হিন্দুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা’ চলছে।’
টমির শেয়ার করা ভিডিওগুলোর একটি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বিবিসি। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী তার বাড়িতে হামলার ঘটনায় স্বামীর জীবন বাঁচাতে আকুতি জানাচ্ছেন। তার বাড়িতে ‘মুসলিমরা’ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয় পোস্টটিতে। এ ঘটনার এক দিন পর ৬ আগস্ট প্রকৃত ভিডিও শেয়ার হয়।
ঘটনাটির অনুসন্ধান করেছিল বিবিসি। ওই নারীকে তার বাড়ি রক্ষায় সহায়তা করা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একটি দল বিবিসিকে বলেছে, বাড়িটি নিয়ে যে বিবাদ ছিল সেটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তারা বিবিসিকে ওই বাড়ির ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করে। তাতেও দেখা যায়, বাড়িটির ভেতরে থাকা মন্দির অক্ষত রয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, ‘বাড়িটি নিয়ে জমির মালিকানা ঘিরে বিবাদ ছিল। বহু আগেই এ নিয়ে একটি মামলা হয়েছে।’ জমির মালিকানা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাটি স্থানীয় আদালতে প্রায় ছয় মাস বিচারাধীন ছিল।
স্থানীয় অন্যদের সঙ্গেও কথা বলেছে বিবিসি। তারা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে ধর্মীয় কারণে হামলা হয়নি। আর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, এ এলাকার অন্য কোনো হিন্দু পরিবার ও মন্দিরে হামলা হয়নি।
এ ব্যাপারে বিবিসি জানতে চাইলে টমি রবিনসন কোনো সাড়া দেননি।

নতুন এই রদবদলে কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. জায়েদ আহমাদ। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে (২০১৮-২০১৯ সেশন) এমবিবিএস পাস করেছেন। এর আগে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সভাপতি এবং মেডিকেল জোনের সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার গ্রামের
১ দিন আগে
নাহিদ বলেন, সরকার বলেছিল, তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু আজ আমরা দেখছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তাই সরকার যদি বলে তারা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে, তাহলে বিচার আর সংস্কার প্রক্রিয়াকে আন্ত
২ দিন আগে
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার পোস্টে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা এখনও কোনো সুস্পষ্ট জাতীয় সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি এবং বর্তমান বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষার কাঠামো দক্ষ জনশক্তি গড়ার পরিবর্তে একটি বৃহৎ শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী তৈরি করছে।
২ দিন আগে
বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, 'গুম, খুন ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আপনারা সবাই মিলে দল সামলেছেন। নিজের পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি সময় ও অর্থ দিয়েছেন। তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থা
৩ দিন আগে