৭ ইসলামি দল নিয়ে ঐক্যের উদ্যোগ হেফাজতের

চট্টগ্রাম ব্যুরো
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২: ৩৩
হেফাজতে ইসলাম। লোগো

সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের মধ্যেকার দূরত্ব ঘুচিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নতুন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কওমি ঘরানার এসব রাজনৈতিক দলের কয়েকটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটে যুক্ত। তাদের জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে হেফাজতের মহাসচিব জানিয়েছেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে দলগুলো একমত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে এসব দলকে নিয়ে বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। বৈঠক হয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায়।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, দূরত্ব ঘুচিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই এ বৈঠক হয়েছে, যাকে বলা হয়েছে মতবিনিময় সভা। হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে মহাসচিব সাজিদুর রহমানসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় ১০ ‘মুরব্বি’ উপস্থিত ছিলেন। আর প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তিনজন করে প্রতিনিধি।

যে সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে এ ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেগুলো হলো— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস।

এসব দলের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম নির্বাচনের সময় জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিল। অন্যদিকে বিএনপি জোটে যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামায়াতের সঙ্গে জোট করার কথা থাকলেও আসন ভাগাভাগিসহ নানা ইস্যুতে তারা শেষ পর্যন্ত ওই জোটে যোগ দেয়নি।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, যেসব দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটে যুক্ত, তাদের জোট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। হেফাজতের মুরব্বিরা তাদের জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন। নির্বাচনি জোটে থাকলেও আলাদা করে এসব দলের মধ্যে ঐক্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেও কেউ কেউ কথা বলেছেন।

বৈঠকের পর ব্রিফিং করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান। সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সাতটি দল একসঙ্গে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ফেলব।

হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক পরিসরে বড় ধরনের প্রভাব রেখে চলেছে। প্রয়াত আহমদ শফীর নেতৃত্বে ২০১০ সালে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে ওই সময়কার নারী নীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তারা। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বর অবরোধ ছিল তাদের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি।

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। সংগঠনের মধ্যে বিভক্তিও দেখা দেয়। কওমি ঘরানার এ সংগঠনটির সঙ্গে কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতাদের বিবৃতি— জিন্নাহকে স্মরণকারীরা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে সংগ্রহশালা থেকে অবিলম্বে ছবিটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১ দিন আগে

রাজনীতি ও ছাগলনামা

সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ‘ছাগলকাণ্ড’ থেকে শুরু করে প্রায় ৮০ বছর আগে মহাত্মা গান্ধীর ছাগল চুরির ঘটনা— রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায়েই জড়িয়ে আছে ‘ছাগল’।

১ দিন আগে

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে হেফাজত

সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে হেফাজত নেতারা ও ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ সংশোধনের দাবি তুলে ধরা হবে।

১ দিন আগে

রাজধানীতে আ.লীগের আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

১ দিন আগে
Advertisement