‘চাঁদাবাজির বিকল্প’ হিসেবে বাংলামোটরে ‘দানবক্স’ চালুর সিদ্ধান্ত: হাসনাত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্বাসন দানবক্স’ চালু করা হবে। এর অংশ হিসেবে আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটরে উন্মুক্ত করা হবে ‘বিশেষ দানবাক্স’।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ এ কথা জানান।
বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে হাসনাত লিখেছেন, ‘১৭ বছর ধরে সরকার দলীয় অনাহারী নেতাকর্মীদের জন্য এবার গণভিক্ষা কর্মসূচি! ভিক্ষা দিন— আপনার ১ টাকাই হয়তো একজনকে চাঁদাবাজির পথ থেকে দূরে রাখবে।’
এনসিপির এই নেতা ফেসবুক পোস্টে আহ্বান জানিয়ে আরও লিখেছেন, ‘দান করুন, চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, সতেরো বছরের অভুক্ত চাঁদাবাজদের জাতীয় পুনর্বাসনে আপনিও অংশ নিন।’
হাসনাত তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনের ফটোকার্ড যুক্ত করেছেন। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম, “পত্রিকা: ‘ডিএমপির চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকায় শীর্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা’।” প্রতিবেদনে আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর শীর্ষ সংবাদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর একটি বড় অংশ জুড়েই ছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ। এর বাইরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও আজকের পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেদনটির শুরুতেই ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত নিউ এইজ পত্রিকার প্রধান খবর ‘BNP activists dominate DMP lists of extortionists, grabbers’; অর্থাৎ, ‘ডিএমপির চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা শীর্ষে’ শিরনামের খবরটি বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি বাংলা।
বিবিসি বাংলা লিখেছে, নিউ এইজের ওই খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তালিকায় রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও জমি-সম্পত্তি দখলে জড়িত এক হাজার ৫৩০ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭৮ জনকে অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩০ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মী।
খবরে আরও বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় এক হাজার ২৫২ জনের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফুটপাত, বাজার, পরিবহন, নির্মাণকাজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্পকারখানা ও জমি দখলসহ বিভিন্ন খাত থেকে চাঁদা আদায়ের তথ্যও এতে উঠে এসেছে।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউ এইজ জানিয়েছে, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের ভিত্তিতে ওই তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তালিকায় কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিছু এলাকায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।













-61303c-256x144.webp)






