কোন ‘উগ্র ডানপন্থা’র ট্রেনে বাংলাদেশকে দেখছেন মাহফুজ আলম?

বাংলাদেশ ‘উগ্র ডানপন্থা’র ট্রেনে উঠে গেছে বলে মনে করছেন জুলাই অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ তকমা পাওয়া মাহফুজ আলম। দেশের রাজনীতিতে এমন কট্টর ডানপন্থি ধারার উত্থান নিয়ে তার এমন আশঙ্কা নতুন নয়। এর আগেও নানা সময়ে ডানপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়ে বারবার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে উদার গণতান্ত্রিক পথে যাত্রার সুযোগ থাকলেও ক্ষমতার রাজনীতিতে সে সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ‘জুলাই পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামে এক পোস্টে নতুন করে উগ্র ডানপন্থি রাজনীতির বিস্তার নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মাহফুজ আলমের পর্যবেক্ষণ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই সেক্যুলার সিভিল সোসাইটি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তিনি ‘জাশি’ (জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির) এবং তাদের সমমনা রাজনীতির কাছে নত হতে দেখেছেন।
তিনি লিখেছেন, জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্সের কাছে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম দেখে এসেছি। ক্ষমতার জন্য, সংস্কারের নামে বিএনপি বিরোধিতার জন্য (যারা আসলে আজীবন কালচারালি লীগ ছিলেন, বিএনপি উনাদের রুচির সাথে যায় না) জাশির কোলে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা দেখেছি। কোলে উঠার পর অনেকে নামতে পারবে না দেখে এখনো জাশির কোলবন্দি হয়ে আছেন।’
ওই সময় থেকেই মাহফুজ ডানপন্থা থেকে উগ্র ডানপন্থায় রূপান্তরিত হতে দেখেছেন অনেককে। নানা প্রক্রিয়ায় এখন দেশ উগ্র ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে বলে মনে করছেন তিনি।
মাহফুজ লিখেছেন, ‘ডিজিটাল মবের চাপে অনেককে ডানপন্থি থেকে উগ্র-ডান হতে দেখেছি। এখনো দেখছি। এসব ডিজিটাল মব আদতে সিস্টেম্যাটিক প্রোপাগান্ডা ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন মেকানিজম। এ মেকানিজমকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় সহসা নেই। দেশ (উগ্র)ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেসে। হরেক রঙ্গের নরম-গরম ডান মিলে এটা নিশ্চিত করে ছাড়বে।’
উগ্র ডানপন্থার রাজনীতির এই উত্থানে জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক ফায়দা দেখছেন মাহফুজ। বলছেন, রাজনীতির পালাবদলে যেসব সেক্যুলার জামায়াত-শিবিরের দ্বারস্থ হয়েছে, তাদের জামায়াত-শিবির একসময় ছুড়ে দেবে।
মাহফুজ লিখেছেন, ‘সংস্কারের নামে (ক্ষমতার জন্য?) বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির কাছে যাওয়ার খেসারত সেক্যুলার সমাজের দিতেই হবে। ট্র্যাডিশনাল আলেম সমাজকেও জাশিকে সার্ভিস দেওয়ার খেসারত দিতে হবে। এখানে কেবলই জাশির লাভ। লাভের গুড় খাওয়ার পরে ছুড়ে ফেলা হবে দুই গোষ্ঠীকেই।’
জামায়াত-শিবিরের এই রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতির পুনর্বাসনের যোগসূত্রও দেখছেন মাহফুজ। লিখেছেন, ‘গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্স। এ আশু ভবিষ্যত পালটানোর সাধ্য আপাতত কারও নেই। আর জাশি যত গুড টাইমে যাবে, ততই লীগ ফেরা অনিবার্য হয়ে উঠবে। উই আর গোয়িং ব্যাক টু সেভেন্টি-ওয়ান, যেখানে বিএনপির একাংশ জাশির দুনিয়ায়, অন্য অংশ লীগের দুনিয়ায় বাস করবে।’
পোস্টের শেষে মাহফুজ লিখেছেন, ‘তোমরা বাকিরা আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখো।’
উগ্র ডানপন্থি রাজনীতির উত্থানের শঙ্কা নতুন নয়
মাহফুজ আলম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীনও বারবারই উগ্র ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির উত্থানের শঙ্কার কথা বলেছেন। আর সে উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা দেখছেন জামায়াত-শিবিরের। তিনি মনে করেন, জামায়াত-শিবির নিজেদের স্বার্থেই এ ধরনের রাজনীতির পালে হাওয়া দিয়ে চলেছে।
গত ৬ জুলাইও ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘রাইট উইং অ্যাক্টর আর কুশীলবদের ফার-রাইট ইলেমেন্টস ইউজ করার ভয়ঙ্কর খেলা এখন কোন পর্যায়ে আছে? মব সন্ত্রাস, মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলায় ওদের মার্সেনারি হিসাবে ব্যবহারের ভেতর দিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার করা শেষ। এখন হাত ধুয়ে ফেলবে জাশি-রাইট উইং বলয়!’
তিনি আরও লেখেন, ‘গত দুই বছর কীভাবে ফার-রাইট (উগ্র ডানপন্থি) ইলেমেন্টস কথিত রাইট-উইং কুশীলবদের দ্বারা সৃষ্ট-পুষ্ট হইল, সেক্যুলার-মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে জুলাই নিয়ে বীতশ্রদ্ধা তৈরিতে ভূমিকা রাখল এবং কাদের আস্কারায়-‘শরিকানা’য় এ সকল ফার-রাইট ইলেমেন্টস জুলাইকে একটা ‘ইসলামি’-‘ঐতিহ্যবাদী’-‘পুনর্জাগরণবাদী’ বিপ্লব বানানোর স্বার্থে অনলাইনে-অফলাইনে বেমেসাল মব-নৈরাজ্য চালাল— সেসব আশা করি বিজ্ঞজন বলা শুরু করবেন।’
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির তিন দিন আগে গত ২ আগস্ট এক পোস্টে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানকেই ডানপন্থি ও অ-ডানপন্থি অক্ষে বিভক্ত করে ফেলার অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘জুলাই আদর্শিক অক্ষ অনুযায়ী বিভক্ত হয়েছে। ডানপন্থি জুলাইয়ের সংগঠনে ডানবিরোধীরা জায়গা পাবেন না। অ-ডানপন্থিদের জুলাই সংগঠনে ডানপন্থিরা জায়গা পাবেন না।’
আক্ষেপ করে তিনি ওই পোস্টে আরও লেখেন, ‘এটাই জুলাই বন্দোবস্ত। ডান-বামের বাইরে যারা যেতে চাইবেন, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা। দ্রুত ডান বা অ-ডান জুলাই বেছে নিয়ে গা বাঁচান। নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।’
জামায়াত-শিবিরের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলায় নানা সময়ে মাহফুজকে অনলাইনে আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে। নানা ধরনের হুমকি-ধমকিও তিনি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ফেসবুকে ‘অ্যাকটিভ’ মাহফুজ এখন কোথায়
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা মনে করা হয় মাহফুজ আলমকে। আন্দোলনের সময় তিনি সামনের সারিতে ছিলেন না, তবে সামনে থাকা সমন্বয়কদের বেশির ভাগের সঙ্গেই তার ছিল নিবিড় যোগাযোগ, আন্দোলন-কর্মসূচি-বক্তব্য নির্ধারণে তিনিই বড় ভূমিকা রেখেছেন।
অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট মাহফুজকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১০ নভেম্বর তাকে সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে উপদেষ্টা করা হয়, তবে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি তিনি।
আরও প্রায় তিন মাস পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাহফুজকে। এর কয়েকদিন আগেই সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেছিলেন নিজেদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাকালীন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের দিন মাহফুজ উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটা অন্তরালে চলে যান মাহফুজ। ফেসবুকে ‘অ্যাকটিভ’ ছিলেন তিনি, নিয়মিত পোস্ট করেছেন। কিন্তু রাজনীতির মাঠে তাকে দেখা যায়নি।
শুরুতে আলোচনা ছিল, মাহফুজ আলম এনসিপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। এমনকি তিনি বিএনপি থেকেও প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচন করতে পারেন বলেও গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হননি মাহফুজ। ফেসবুক পোস্টের মধ্যেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিলেন। তবে জানিয়ে আসছিলেন, নতুন কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তিনি হাজির হবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পাঁচ দিন আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ: আমাদের ব্যর্থতা এবং নতুন সূচনার পথ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান দিয়ে ফের মাঠের রাজনীতিতে ফেরেন মাহফুজ আলম। জানান, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল তার নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘অল্টারনেটিভস’।
অল্টারনেটিভস কী, কারা যুক্ত এতে
৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু ঘোষণা দেওয়ার এক মাস পর ৬ মার্চ রাতে ফেসবুক পেজে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি’ ঘোষণা করে অলটারনেটিভস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির সদস্যরা সংগঠক হিসেবে কাজ করবেন, যারা ‘পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে এক করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেবেন।’
মাহফুজ আলম ছাড়াও ১৭ সদস্যের সে কমিটিতে ছিলেন এনসিপির সাবেক দুই যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন ও হাসান আলী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সাবেক যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ঈমান সৈয়দ।
মাহফুজের রাজনৈতিক চিন্তা: কতটা বদলেছে, কী বদলায়নি
মাহফুজের অবস্থান কতটা বদলেছে, তা অনেকটাই স্পষ্ট তার বক্তব্যের ধারাবাহিকতায়। গত ডিসেম্বরের পোস্টে ‘নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত’ ও ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক সংগ্রামে’র কথা তিনি নিজেই ‘দীর্ঘদিনের অবস্থান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
জানুয়ারিতে তিনি যুক্তি দেন, পুরোনো ব্যবস্থার লোকদের সঙ্গে আপস করে নতুন ব্যবস্থা গড়া যায় না। গত ১৯ মে রাতে তার দেওয়া এক পোস্ট ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে, যেখানে আওয়ামী লীগ ‘ব্যাক করেছে’ বলে যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে’।
কীভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ফিরে এসেছে— সে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও মাজারে হামলায় নীরবতার পাশাপাশি মব সন্ত্রাস, সংস্কার ও বিচারকে নির্বাচনি দরকষাকষির অংশ করে ফেলা এবং জুলাই সনদের প্রক্রিয়ার দুর্বল হয়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে তুলে তুলে ধরেন।
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকেও এর জন্য দায়ী করেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে যাদের অবদান ছিল তাদের বাদ দিয়ে কোনো অবদান না রাখা ‘গুপ্ত’দের ক্ষমতায়ন করা, জুলাই অভ্যুত্থানকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া, জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদকে আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া, আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘মবে’র শাসন প্রতিষ্ঠাতা, উগ্র ডানপন্থিদের প্রশ্রয় দেওয়া— এসব ঘটনাকেই আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’র কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
এ নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মাহফুজকে। সমালোচনার মুখে মধ্যরাতে দ্বিতীয় এক পোস্টে তিনি ‘সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে’ দাঁড়ানো এবং ‘হঠকারী, উগ্রবাদী ও নাশকতামূলক রাজনীতি’কে পরাজিত করাকেই কর্তব্য বলে বর্ণনা করেন। বলেন, ‘আমাদের এখনকার কাজ হলো... জুলাইকে একটি মতাদর্শের ব্যানারে কুক্ষিগত ও বিভাজিত করার সকল প্রকল্পকে পরাস্ত করা।’
১৯ জুন আরেক পোস্টে ফেসবুকে মাহফুজ মধ্যবিত্তের ভূমিকা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে লেখেন এবং জুলাইপন্থিদের ‘সর্বোচ্চ মিত্রতা’ গড়ার আহ্বান জানান। ২৭ জুন আরেক পোস্টে তিনি নিজেকে ‘প্রথম বলির পাঁঠা বা টার্গেট’ বলে উল্লেখ করেন, তবে কার বা কীসের প্রসঙ্গে, তা স্পষ্ট করেননি। জুলাইয়ের শুরুতে তিনি ‘উগ্র ডানপন্থি’ গোষ্ঠীকে ‘মার্সেনারি’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন।
ধারাবাহিকভাবে মাহফুজের বক্তব্যগুলো থেকে এটি স্পষ্ট— জুলাইপন্থিদের মিত্রতার শক্তিতে এগিয়ে যেতে চান তিনি। একই সঙ্গে উগ্র ডানপন্থি রাজনীতির বিকাশকে দেশের জন্য আশঙ্কার কারণ মনে করেন। জামায়াত-শিবির এই রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ তার।
এসবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথও প্রশস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন মাহফুজ। গত জানুয়ারিতে ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবশ্য তিনি খোলাখুলিই বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী হলো আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’। অর্থাৎ দুটি দল একই মুদ্রার এ পিঠ-ও পিঠ। সে হিসেবে দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, অন্যদিকে জামায়াত টিকে থাকলে আওয়ামী লীগও টিকে থাকবে।
























