জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস নয়, সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে: সিপিবি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪: ০১
কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৪০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্যে দেন সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। ছবি: সংগৃহীত
কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৪০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্যে দেন সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়ে সিপিবিকে দমন করা যাবে না। দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো চুক্তি, সিদ্ধান্ত ও তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ‘প্রতিবাদ ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে’।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক সংসদ সদস্য কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৪০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে সিপিবির উদ্যোগে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ত্রিদিব সাহা। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্মরণসভায় সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘জনগণের সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির স্বার্থে বিপন্ন হতে দেওয়া হবে না। দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ হলো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা এবং শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে বৈষম্য, শোষণ ও লুটপাটের অবসান ঘটাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কমিশনভোগী গোষ্ঠী জনগণের জীবন-জীবিকা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের ভুয়া পরিসংখ্যান এবং বিদেশি বিনিয়োগের অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে।’

স্মরণসভায় সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ শিখিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আদর্শ ও নীতিতে অবিচল থেকে কীভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। তার দেখানো পথেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম আরও জোরদার করবে সিপিবি।

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন সব প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘চলমান দুঃশাসন, অন্যায়, দমন-পীড়ন এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী তৎপরতা’র বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ যখন নির্যাতন চালায় এবং তাদের আঘাতে সিপিবির সভাপতি আহত হন, তখন বুঝতে হবে সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্র ভালোভাবে আয়ত্ত করেছে। সরকার কানসাট ও ফুলবাড়ীর মতো অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা না নিয়ে বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্মরণসভায় সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, নারী-বিদ্বেষ, জাতিগত বৈষম্য ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের পথে গুরুতর বাধা। ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা, লিঙ্গ ও রাজনৈতিক মতাদর্শনির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনআকাঙ্ক্ষা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের দেখানো পথে এগিয়ে নিতে হবে।

সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার সংগ্রামে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ তার গোটা জীবন ব্যয় করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান আমলে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের দেখানো সংগ্রামের পথ ধরেই সিপিবি এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে এ সংগ্রাম অব্যাহত রাখা এবং দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিতে হবে।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির জাতীয় পরিষদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিপিবির নেতাকর্মী, বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিবর্গ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement