৪ দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে জাপানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। ফাইল ছবি: পিএমও
সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে জাপানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। ফাইল ছবি: পিএমও

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে টোকিও ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত সোমবার চার দিনের সফরে দেশটিতে যান তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সফরের অংশ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

গত ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপানের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও কথা বলেন দুই নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের দুটি ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

স্বাক্ষরিত দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন বা ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতার জন্যও একটি অভিপ্রায়পত্রে সই করেছে দুই দেশ।

ঋণ প্রকল্প দুটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

পাঁচ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

গত ২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। খাতগুলো হলো—মোটরগাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, দ্রুতগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।

বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তারেক রহমান।

সফরকালে জাপানের রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা।

এ ছাড়া ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেইআরএসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা উঠে আসে।

জাপানের শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন

গত ২৭ অক্টোবর জাপানের ফুতসুতে জেইআরএর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন ইচিকাওয়ায় নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখেন তিনি। এসব পরিদর্শনে জাপানের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নেন তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সফরের শেষ দিনে নাগোয়া সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা এবং টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করেন তিনি। এর মাধ্যমে জাপানের মোটরগাড়ি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যে তারেক রহমানের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন কাঠামো তৈরি করেছে।

জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে আসছে দেশটি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান যান তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বাসস।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad