জুলাই সনদ থেকে ভূ-রাজনীতি— নতুন সরকারের সামনে রাজনৈতিক যত চ্যালেঞ্জ

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০: ১২
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল ছবি

মাত্র মাসখানেক হলো বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। রাষ্ট্র সংস্কারের বিশাল জনআকাঙ্ক্ষা আর জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা— সব মিলিয়ে ঈদুল ফিতরের পর সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন বা সংস্কারের রোডম্যাপ দেখাতে না পারে, তবে ফের দানা বাঁধতে পারে ক্ষোভ। বিশেষ করে জুলাই সনদের অঙ্গীকার রক্ষা ও ঘনিয়ে আসা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

সরকারের প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন বিরোধী দলসহ সাধারণ মানুষের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে রয়েছে, যা সরকারের টিকে থাকার লড়াইকে আরও জটিল করে তুলবে। তবে সরকারের দাবি, ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ না শুকাতেই তারা নির্বাচনি ইশতেহার ও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তা সত্ত্বেও পর্দার আড়ালে থাকা কিছু ‘অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ’ আগামী দিনগুলোতে সরকারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনার কেন্দ্রে জুলাই সনদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ পার করে আসায় বিএনপির ও তারেক রহমানের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন অনেক উঁচুতে, যা পূরণ করা সরকারের জন্য একটি বড় চাপ।’

এ অবস্থায় রাজনৈতিক দিক থেকে জুলাই সনদকে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর দেশে একটি নতুন সরকার আসায় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বেশ কিছু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বা বাধা রয়েছে। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ভেতরে দোদুল্যমানতা এবং গণভোটের জায়গা থেকে অনেকটা সরে আসা।’

জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই যুক্ত ছিল বিএনপি। এখন তারা নিজেরাই এ সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি করলে তাকে প্রতারণার শামিল বলে বিবেচনা করা যায় বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বির।

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারিও বিএনপি। এখন তারাই যদি নিজেদের স্ট্যান্ডপয়েন্ট থেকে পিছিয়ে আসে, তাহলে বিরোধী দল একে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এর আগে কিন্তু এক উপনির্বাচন ঘিরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের ফলে বিএনপিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য গভীর হলে তা বড় সংকট তৈরি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

জুলাই সনদ নিয়ে ড. সাব্বিরের এমন আশঙ্কার সঙ্গে একমত অধ্যাপক আইনুল ইসলামও। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে উভয় জায়গাতেই দেখতে পাচ্ছি। আমি মনে করি, এ সমস্যার সমাধান কেবল রাজনৈতিকভাবেই সম্ভব। তাই আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর যে আপত্তি ছিল, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদের বিষয়টি মীমাংসা করে এগোতে হবে।’

জুলাই সনদ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলোও। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমরা এই সনদে সই করেছি, গণভোটের পক্ষে জোরালো প্রচার চালিয়েছি। তাই সংসদ বা যেকোনো প্রক্রিয়াই হোক না কেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ থেকে সরে আসার সুযোগ আমাদের নেই। এটি করতে ব্যর্থ হলে সরকারকে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে।’

সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলেই দাবি করছেন বিএনপি নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বারবারই বলেছেন, জুলাই সনদ বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদ নিয়ে সংসদের বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েই উলটো বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তুলছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, বিরোধী দল দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গঠনমূলক কাজ করবে। কিন্তু তারা এখন ঠুনকো অভিযোগে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা জুলাই সনদের কথা বারবার বলছে। অথচ আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। আমাদের সেই অঙ্গীকার আমরা বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছি।’

‘আমি মনে করি, জুলাই সনদের দোহাই দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকি মূলত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার একটি প্রক্রিয়া, যা আমরা অতীতে আওয়ামী রাজনীতির মধ্যে দেখেছি। তাই আমি অহেতুক বিরোধিতা না করে ইতিবাচক ও সঠিক রাজনীতি করার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানাব, যেন আমরা গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার অনুযায়ী জনগণকে স্বস্তিতে রাখতে পারি,’— বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব প্রিন্স।

আওয়ামী লীগের ফেরার সম্ভাবনা

জুলাই সনদের বাইরে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার সঙ্গে নির্বাচনি সমীকরণকেও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সরকারের আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ড. সাব্বির আহমেদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ সংকট হলো আওয়ামী লীগের ফিরে আসা বা তাদের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা। গত নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোট পড়লেও এর বড় একটি অংশ ছিল আওয়ামী লীগের। সামনে স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেয় এবং তাদের ভোট বিএনপিকে না দেয়, সেটি নির্বাচনি সংকট তৈরি করতে পারে।’

বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে গুঞ্জনের পালে হাওয়া দিয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করছে বিরোধী দলগুলো।

বিএনপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতার বক্তব্য আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মিশ্র বক্তব্যও এসেছে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থানই ধরে রেখেছে বিএনপি। গত বুধবারও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, বন্ধ আছে এবং তা বন্ধই থাকবে।’

তৃণমূল নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ

তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে উল্লেখ করে ঢাবি অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কদাচিৎ অতীত থেকে শিক্ষা নেয়। তাই আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের কর্মকাণ্ড থেকে বিএনপি কতটা শিখবে তা নিয়ে আমার সংশয় আছে। বরং দলটির লোকজন মনে করছে, তারা এতদিন অনেক আত্মত্যাগ করেছে বলে এখন তাদের পুরস্কৃত হওয়ার সময়, যা তারেক রহমানের জন্য একটি বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।’

পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দলের পক্ষ থেকেও নানাভাবে দলীয় নেতাদের ‘পুরস্কৃত’ করার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। রাজধানী ঢাকার দুটিসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগকে সে প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো। নির্বাচনের আয়োজন না করে দলীয় নেতাদের নিয়োগে দিয়ে এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ‘দখল’ করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

পাশাপাশি তৃণমূলে বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও ‘মব সহিংসতা’র প্রবণতাকেও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন ড. সাব্বির। ছাত্রলীগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়তো কঠিন হবে না। তবে বিএনপির তৃণমূলের লোকজন যদি চাঁদাবাজি বা মব ভায়োলেন্সে জড়িয়ে পড়ে, তা দলের জনপ্রিয়তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আওয়ামী লীগের পতনের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের ভায়োলেন্সের বেলাতেও এমন নজির আমরা দেখেছি।’

জবরদখল ও অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে সতর্ক করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের দলীয় পরিচয় না দেখে কেবল দুর্বৃত্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, অপরাধীদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করলেই কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা সম্ভব।’

‘সরকার যদি সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জবরদখল নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে না পারে, তবে অনেক ভালো কাজও ঢাকা পড়ে যাবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ বিগত দিনে মব সংস্কৃতির মাধ্যমে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে মানুষ এখন মুক্তি চায়, মানুষ স্বস্তি চায়,’— বলেন সাইফুল হক।

রাজনীতিবিদসহ বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতি-অনিয়ম প্রশ্নের সরকারের অবস্থানই নির্ধারণ করে দেবে যে ঈদের পর সরকার রাজপথে বিরোধীদের কতটুকু মোকাবিলা করতে পারবে। যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে জনগণের আস্থা ফেরানো অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং তাতে সরকারের ভিত্তি নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ‘চাপ’

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফল হিসেবে শুরু হয়েছে ইরান যুদ্ধ। এরই মধ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাজার, এভিয়েশন খাত থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বই তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেল নিয়ে সংকট তৈরি হলে এবং এর প্রভাবে দ্রব্যমূল্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যাবে এবং মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে বলে মনে করছেন ঢাবি অধ্যাপক আইনুল ইসলাম। রাজনৈতিকভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সরকারকে লুকোচুরি না করে সঠিক তথ্য দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক আইনুল রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘পাম্পে তেল না থাকা সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে ঘাটতি নেই বলা হচ্ছে। আবার পাম্প মালিকরা যেকোনো সময় বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তি ও আস্থার সংকট মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে আনতে পারে অথবা বিরোধীদের ডাকে সাড়া দিতে উৎসাহিত করতে পারে। তাই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সামাল দিতে হবে, জনগণকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।’

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে চাপে থাকতে হতে পারে উল্লেখ করে ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমেরিকা ও ভারতের যে যৌথ ও নানামুখী চাপ রয়েছে, তা মোকাবিলা করাও বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড বিল ও মিয়ানমার সংক্রান্ত তাদের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।’

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটকে ঈদের পর একটি বড় ‘রাজনৈতিক উসকানি’ হিসেবে দেখছে সরকারি মহল। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং তার প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে বিরোধীরা তার ফায়দা নিতে পারে— এমন আশঙ্কা সরকারের তরফ থেকেও করা হচ্ছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স মনে করেন, যারা এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায় তারা রাজনীতির ‘র’-ও বোঝে না। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এই সংকট বৈশ্বিক। তবু সরকার তেলের দাম না বাড়াতে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট। তারপরও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সামনে তেল বা দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে। তার সুযোগ যদি কেউ রাজনৈতিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে, সেটি হবে দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক জ্ঞানহীনতার বহির্প্রকাশ।’

জনতুষ্টির ‘কৌশল’

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম এক মাসের মধ্যেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যেসব পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে, সেগুলোকে নিজেদের শক্তিশালী দিক বলে মনে করছে বিএনপি। সরকার ধারাবাহিকভাবে এ রকম রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণের মাধ্যমে জনগণকে সন্তুষ্ট রাখার কৌশল নিতে পারে বলেই মনে করছেন দলটির নেতারা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কেবল এক মাস কয়েক দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেও আমাদের সরকার যে কাজগুলো করেছে তা অতীতে কোনো সরকার করতে পারেনি। আমি মনে করি, বিশাল অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ ও খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্প শুরু সরকারের বড় অর্জন।’

‘এমনকি পহেলা বৈশাখে আমরা কৃষক কার্ডও প্রবর্তন করব। আমাদের সরকারের যাত্রা শুরুর পরপরই রোজা ও ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তেলের একটা সংকট তৈরি হলেও তারেক রহমানের বিচক্ষণতা ও নির্দেশনায় আমরা তেলের দাম বাড়াইনি, ফলে রোজার মধ্যে দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে ছিল। আমরা আশা করি, বিএনপি সবসময় এভাবেই জনগণের পাশে থাকবে,’— বলেন এমরান সালেহ প্রিন্স।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অধিকাংশ নেতা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

৬ দিন আগে

বিএনপি যা বলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে: দুলু

আমাদের মা-বোনেরা যারা অসহায়, যাদের স্বামী অসুস্থ, কাজ করতে পারে না বা স্বামী মারা গেছে প্রত্যেকটি পরিবারের মেয়েরা ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক মা-বোন মাসে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। ইতিমধ্যে তারেক রহমান সাহেব এটি উদ্বোধন করেছেন। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক পরিবারের অভিভাবক

৬ দিন আগে

চৌধুরী সায়মার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

বাস্তবতা হলো, আমার এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সায়মা ম্যামের শ্রদ্ধেয় বাবা, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সাহেবের নামের অপব্যবহার করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে, ম্যামকে অবহিত করলে ম্যাম তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দেন। এমনকি ম্যাম আমাকে জানান, যারা তার বাবার নামের অপব্যবহার করে অনিয়ম করার চেষ্টা করছে, তাদের

৬ দিন আগে

জামায়াতের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করছেন

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন ডা. শফিকুর রহমান। এই আয়োজন তার সরকারি বাসভবন ২

৬ দিন আগে