
শাহরিয়ার শরীফ

ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক আগে থেকেই ছিল, তবে সমর্থন প্রকাশ্য ছিল না। ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন জানিয়ে আসছিল ভারত।
কিন্তু গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামাস ও ইসরায়েলের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে প্রকাশ্য সমর্থন জানাচ্ছেন, যা দেখে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন দেওয়া ভারত এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের অবস্থান এখন ভিন্ন।
এ প্রসঙ্গে আল জাজিরা, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে ইহুদিবাদীদের সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে।
গত শনিবার ইসরায়েলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাস। পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল গাজা উপত্যকা তছনছ করে দেয়।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ মঙ্গলবার বলেছে, ‘গাজায় ২ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে হামাসের সাথে যুদ্ধে এক হাজারেরও বেশি ইসরাইলী নিহত হয়েছে। এদিকে গাজা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলী হামলায় নয়শ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় ইসরায়লের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা। ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতও।
ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একাধিকবার টুইট করার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
টুইট করে এই খবর জানিয়ে মোদি বলেন, 'ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাকে বলেছি, এই কঠিন সময়ে ভারতবাসী দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
এর আগে মোদি টুইট করে বলেন, 'ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যেসব নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।'
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার দুই দশক আগে ১৯৩৮ সালে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী ফিলিস্তিন সম্পর্কে বলেছিলেন, 'ফিলিস্তিন ঠিক সেভাবেই আরবদের, যেভাবে ইংল্যান্ড ইংরেজদের এবং ফ্রান্স ফরাসিদের।'
ভারত সব সময় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরোধিতা করেছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।যদিও ভারতের ভেতরে সক্রিয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সব সময়ই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
ভারতে হিন্দুত্ববাদের জনক হিসেবে পরিচিত বিনায়ক দামোদর সাভারকর ১৯২০-এর দশকে লিখেছিলেন, 'ইহুদিবাদীদের স্বপ্ন যদি কখনো বাস্তবায়িত হয়—যদি ফিলিস্তিন একটি ইহুদি রাষ্ট্র হয়ে যায়—এতে আমরা ততটাই আনন্দিত হব যতটা আমাদের ইহুদি বন্ধুরা হবে।'
সময়ের পরিক্রমায় মোদি সরকার এখন ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত। ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরে যাওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। বিমানবন্দরে আলিঙ্গন করে মোদিকে 'বন্ধু' বলেও সম্বোধন করেছিলেন নেতানিয়াহু।
ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতের সমর্থন ছিল দ্ব্যর্থহীন।
ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে যে ১৩টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল তার মধ্যে ছিল ভারত।
তবে বিশ্বের শক্তিধর বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ১৯৫০ সালে ভারত এক প্রকার বাধ্য হয়েই দেশটিকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭৪ সালে, ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র ও বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) স্বীকৃতি দেয় ভারত। আরব বিশ্বের বাইরে পিএলওকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভারত। ভারত সরকার ১৯৭৫ সালে পিএলওকে নয়াদিল্লিতে কার্যালয় খোলার অনুমতি দেয়। ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় ভারত এবং ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনে কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের বাঁক বদল ঘটে। ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের নেতৃত্বে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভারত। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারত তখনও বিচ্যুত হয়নি।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে ভারত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতীয় এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ 'র্যাপিড টেস্ট কিট' তৈরি করতে একসঙ্গে কাজ করেছে। ২০২১ সালের মার্চে ভারতের ওষুধ কোম্পানি প্রেমাস বায়োটেক এবং ইসরায়েলের ওরামেড যৌথভাবে একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতেও ভারত ও ইসরায়েলকে উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০১৮ সালে ভারত সফরে এসে মুম্বাইতে 'শালোম বলিউড' শীর্ষক একটি ইভেন্টে যোগ দেন। বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা এতে অংশ নেন। এক বছর পরে, ইসরায়েলে চিত্রায়িত প্রথম বলিউড সিনেমা 'ড্রাইভ' নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়।
তবে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সবসময়ই ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ভারতকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছিল। এরপর ভারত ১৯৬৫ সালের যুদ্ধেও ইসরায়েলি অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় অস্ত্র ও নজরদারির প্রযুক্তি দিয়ে ভারতকে সহায়তা করে ইসরায়েল।
ভারত এখন ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ভারতে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দেশটি। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করে ইসরায়েল।
বিজেপির অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারন ভারত সফর করেন।
২০১৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ইসরায়েল সফর করেন। সফরে তিনি ফিলিস্তিনি কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তখনই বিজেপি সরকার পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে তারা কোনো পক্ষে।
মোদির সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতার কথা কারও অজানা নয়। ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বাইরেও নেতানিয়াহু-মোদির সম্পর্ককে দুজন ডানপন্থী নেতার ঘনিষ্ঠতা হিসেবে দেখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুজনই নিজেদের দেশকে শত্রু পরিবেষ্ঠিত এবং ইসলামী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের অপরিহার্য হিসেবে দেখাতে আগ্রহী।

ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক আগে থেকেই ছিল, তবে সমর্থন প্রকাশ্য ছিল না। ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন জানিয়ে আসছিল ভারত।
কিন্তু গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামাস ও ইসরায়েলের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে প্রকাশ্য সমর্থন জানাচ্ছেন, যা দেখে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন দেওয়া ভারত এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের অবস্থান এখন ভিন্ন।
এ প্রসঙ্গে আল জাজিরা, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে ইহুদিবাদীদের সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে।
গত শনিবার ইসরায়েলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাস। পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল গাজা উপত্যকা তছনছ করে দেয়।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ মঙ্গলবার বলেছে, ‘গাজায় ২ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে হামাসের সাথে যুদ্ধে এক হাজারেরও বেশি ইসরাইলী নিহত হয়েছে। এদিকে গাজা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলী হামলায় নয়শ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় ইসরায়লের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা। ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতও।
ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একাধিকবার টুইট করার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
টুইট করে এই খবর জানিয়ে মোদি বলেন, 'ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাকে বলেছি, এই কঠিন সময়ে ভারতবাসী দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
এর আগে মোদি টুইট করে বলেন, 'ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যেসব নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।'
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার দুই দশক আগে ১৯৩৮ সালে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী ফিলিস্তিন সম্পর্কে বলেছিলেন, 'ফিলিস্তিন ঠিক সেভাবেই আরবদের, যেভাবে ইংল্যান্ড ইংরেজদের এবং ফ্রান্স ফরাসিদের।'
ভারত সব সময় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরোধিতা করেছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।যদিও ভারতের ভেতরে সক্রিয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সব সময়ই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
ভারতে হিন্দুত্ববাদের জনক হিসেবে পরিচিত বিনায়ক দামোদর সাভারকর ১৯২০-এর দশকে লিখেছিলেন, 'ইহুদিবাদীদের স্বপ্ন যদি কখনো বাস্তবায়িত হয়—যদি ফিলিস্তিন একটি ইহুদি রাষ্ট্র হয়ে যায়—এতে আমরা ততটাই আনন্দিত হব যতটা আমাদের ইহুদি বন্ধুরা হবে।'
সময়ের পরিক্রমায় মোদি সরকার এখন ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত। ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরে যাওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। বিমানবন্দরে আলিঙ্গন করে মোদিকে 'বন্ধু' বলেও সম্বোধন করেছিলেন নেতানিয়াহু।
ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতের সমর্থন ছিল দ্ব্যর্থহীন।
ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে যে ১৩টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল তার মধ্যে ছিল ভারত।
তবে বিশ্বের শক্তিধর বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ১৯৫০ সালে ভারত এক প্রকার বাধ্য হয়েই দেশটিকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭৪ সালে, ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র ও বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) স্বীকৃতি দেয় ভারত। আরব বিশ্বের বাইরে পিএলওকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভারত। ভারত সরকার ১৯৭৫ সালে পিএলওকে নয়াদিল্লিতে কার্যালয় খোলার অনুমতি দেয়। ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় ভারত এবং ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনে কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের বাঁক বদল ঘটে। ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের নেতৃত্বে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভারত। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারত তখনও বিচ্যুত হয়নি।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে ভারত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতীয় এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ 'র্যাপিড টেস্ট কিট' তৈরি করতে একসঙ্গে কাজ করেছে। ২০২১ সালের মার্চে ভারতের ওষুধ কোম্পানি প্রেমাস বায়োটেক এবং ইসরায়েলের ওরামেড যৌথভাবে একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতেও ভারত ও ইসরায়েলকে উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০১৮ সালে ভারত সফরে এসে মুম্বাইতে 'শালোম বলিউড' শীর্ষক একটি ইভেন্টে যোগ দেন। বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা এতে অংশ নেন। এক বছর পরে, ইসরায়েলে চিত্রায়িত প্রথম বলিউড সিনেমা 'ড্রাইভ' নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়।
তবে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সবসময়ই ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ভারতকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছিল। এরপর ভারত ১৯৬৫ সালের যুদ্ধেও ইসরায়েলি অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় অস্ত্র ও নজরদারির প্রযুক্তি দিয়ে ভারতকে সহায়তা করে ইসরায়েল।
ভারত এখন ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ভারতে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দেশটি। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করে ইসরায়েল।
বিজেপির অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারন ভারত সফর করেন।
২০১৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ইসরায়েল সফর করেন। সফরে তিনি ফিলিস্তিনি কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তখনই বিজেপি সরকার পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে তারা কোনো পক্ষে।
মোদির সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতার কথা কারও অজানা নয়। ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বাইরেও নেতানিয়াহু-মোদির সম্পর্ককে দুজন ডানপন্থী নেতার ঘনিষ্ঠতা হিসেবে দেখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুজনই নিজেদের দেশকে শত্রু পরিবেষ্ঠিত এবং ইসলামী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের অপরিহার্য হিসেবে দেখাতে আগ্রহী।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক উচ্চপদস্থ বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির বরাতে মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পথে রওয়ানা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় তিনি ওয়াশিংটন ছাড়েননি। হোয়াইট হাউজ এখন বলছে, তার পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আবু নাছের শামীম (৫০) নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের পার্শ্ববর্তী বারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
২১ ঘণ্টা আগে
কিন্তু ইসলামাবাদে যদি দুপক্ষকে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসানোও যায়ে, তাতেও কি ফল মিলবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে দুই দেশের মধ্যে এখনো বেশকিছু ইস্যু নিয়েই রয়ে গেছে তীব্র মতবিরোধ, যা সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করতে পারে। এমন বিষয়গুলোই নিচে তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে