আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি, অবরোধও চলবে: ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

‘পাকিস্তানের অনুরোধে’ ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে এ ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ঘোষণার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ইরানও তাতে সায় দেয়।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্পের ঘোষণায় সে মেয়াদ বাড়ল। তবে ট্রাম্প যে আলোচনার কথা বলেছেন, সেই আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। কারণ ইরান এখনো আলোচনার জন্য কিছু শর্তে অনড় রয়েছে।

এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পথে রওয়ানা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় তিনি ওয়াশিংটন ছাড়েননি। হোয়াইট হাউজ এখন বলছে, তার পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা হয়। সে আলোচনায় দুপক্ষ কোনো সমঝোতায় আসতে পারেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা করলে ইরান বেঁকে বসেছে। অবরোধ না তুললে দ্বিতীয় দফায় তারা আলোচনায় বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

ইরান সম্পর্কিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা

এদিকে হোয়াইট হাউজের রিপোর্টার বার্নড ডেবুসম্যান জুনিয়র লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যুদ্ধবিরতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, যেন তারা আলোচনায় ছাড় দেয়।

ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের পাঠানো এক ঘোষণায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ১৪ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কিছু বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।

তাদের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরান সরকারের পক্ষ হয়ে অস্ত্র বা অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ বা পরিবহনে ভূমিকা রেখেছে। এ ঘোষণার অর্থ— নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্তদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা আমেরিকানদের দখলে থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হবে এবং সেগুলোর তথ্য জানাতে হবে।

এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও একই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা এমনকি অস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থানরত বিদেশিরাও এই সত্তাগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবেন না।

মার্কিন সরকারের মতে, এসব সত্তা ইরানকে আবার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুনর্গঠনে সহায়তা করছে, যা অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে , এ ঘোষণা একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ, যার নাম অপারেশন ‘ইকনমিক ফিউরি’। এর লক্ষ্য ইরানের বিশ্ব আর্থিক বাজারে প্রবেশ বন্ধ করা এবং প্রশাসনের আশা, ইরানকে এমন একটি চুক্তিতে আসতে চাপ দেওয়া, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য।

ওয়াশিংটনে দিনভর কূটনীতি

বিবিসির ওয়াশিংটন সংবাদদাতা ড্যানিয়েল বুশ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার ছিল কূটনৈতিক ব্যস্ততায় পূর্ণ। এ দিন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে পাঠানোর জন্য এয়ার ফোর্স টু প্রস্তুত ছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও এয়ার ফোর্স টু উড্ডয়ন করেনি এবং আলোচনা স্থগিত করা হয়।

পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হবে, যেন ইরান একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ তৈরির জন্য সময় পায় এবং যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজে নিতে পারে।

এ সময়ের মধ্যে ট্রাম্প বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে চিন্তা করছিলেন আর বিশ্ব অপেক্ষা করছিল দেশগুলো যুদ্ধ শেষ করার দিকে এগোচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত গত দুই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো, যেখানে তিনি যুদ্ধ আরও বাড়ানোর হুমকি থেকে সরে এসেছেন। এর ফলে তিনি প্রায় দুই মাসের এই সংঘাত শেষ করার জন্য আরও সময় পেলেন।

অনিশ্চিত আলোচনার প্রভাব তেলের দামে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার অবস্থা এখনো অনিশ্চিত থাকায় বুধবার দিনের শুরুর লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। লেনদেন শুরুর দিকে দাম বাড়লেও পরে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৩২ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর জবাবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

তৃণমূলের ৪৪০ কোটি রুপির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিধানসভা নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের পর প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুটি শিবিরের মধ্যে সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতা দখলের লড়াই চরম রূপ নিয়েছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুস

১৪ ঘণ্টা আগে

লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের ‘অবনতি’

ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর মার্কিন প্রচেষ্টার মধ্যেই বৈরুতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণ এবং নেতানিয়াহুর অনড় সামরিক অবস্থানের কারণে দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্কের নজিরবিহীন অবনতি ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে দেশটির ‘খাতাম-আল আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, “এতদ্বারা ঘোষণা করা হচ্ছে যে, সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য এখন থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।”

১৮ ঘণ্টা আগে

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেওয়ার পর আজ শনিবার বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা (স্টেট অব ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।

২১ ঘণ্টা আগে