দিল্লিতে পিজি ভবন ধসে নিহত ৩, ধ্বংসস্তূপে বহু শিক্ষার্থী আটকে থাকার শঙ্কা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দিল্লির পিজি ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় পাঁচ তলা একটি ভবন ধসে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভবনটি পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন মার্কেট এলাকায় শিব মন্দিরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস প্রায় দুপুর দেড়টার দিকে ভবন ধসের খবর পায়। পরে দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), দিল্লি ডিজ্যাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ডিডিএমএ), মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি), সিএটিএস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো ছিল। এতে একটি বেজমেন্টের ওপর পাঁচটি তলা ছিল এবং সেটি পিজি আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভবনের বেজমেন্টে সংস্কার ও খননকাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কাজের সময় ভবনের একটি স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরো কাঠামোটি ধসে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভবন ধসের পর ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়রা জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভবন ধসের শব্দটি অনেকটা ভূমিকম্পের মতো মনে হয়েছিল। ধসের পর ধোঁয়া ও ধুলায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন থাকতে পারেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি মূলত শিক্ষার্থীদের ছেলেদের পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের কক্ষে অবস্থান করছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভিডিও বার্তা পাওয়ার খবরও এসেছে। একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থী সাহায্যের আবেদন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সর্বশেষ স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও ধ্বংসস্তূপের কাঠামো নড়বড়ে থাকায় সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। পাশের একটি ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি খালি করে দেওয়া হয়েছে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: মুখ্যমন্ত্রী

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, বেজমেন্টে খননকাজ চলার সময় একটি স্তম্ভ নড়ে যাওয়ার পর ভবনটি ধসে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবনটি পুরোনো ছিল এবং সেখানে সংস্কারের কাজ চলছিল।

রেখা গুপ্তা বলেন, এই ঘটনায় যে-ই দায়ী হোক— ভবনের মালিক কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা— তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ঘটনার তদন্তে একটি সরকারি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের খবরও এসেছে। তদন্তে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

রাহুলের আহ্বান, অমিত শাহের খোঁজখবর

দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ, বিশেষ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

রাহুল আরও বলেন, আবাসিক সুবিধার সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অমানবিক পরিবেশে পিজিতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবন মূল্যবান এবং তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা উচিত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, দিল্লি পুলিশ কমিশনার এবং এনডিআরএফের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এনডিআরএফ সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান

সত্য নিকেতন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় পিজি আবাসিক এলাকা। ফলে ভবন ধসের পর আশপাশের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও জীবিত মানুষকে বের করে আনার আশায় উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার ও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রকৃতপক্ষে কতজন আটকা রয়েছেন, সে সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা। একই সঙ্গে বেজমেন্টে চলা সংস্কার ও খননকাজের অনুমোদন, ভবনের নিরাপত্তা এবং পিজি হিসেবে ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের ৩ তেলের ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

হামলার পরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে 'এম/টি ডাউনি' এবং জাস্ক উপকূলের কাছে 'এম/টি স্টার্ক ১' নামের দুটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং সেগুলোকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দেয়। এছাড়া ওমান উপসাগরের কাছে থাকা 'এম/টি কায়লো' (যা 'নোক্সেন' নামেও পরিচিত) নামের আরেকটি খা

১৬ ঘণ্টা আগে

অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে ডোভার বন্দর অবরুদ্ধ, রাস্তায় নামল মুখোশধারীরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিপুলসংখ্যক মানুষ দলবদ্ধভাবে ডোভার বন্দরের দিকে হাঁটছেন। পরে তারা এ২০ সড়কে হাত ধরে মানবপ্রাচীর তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

১ দিন আগে

ভুল নয়, ‘হাফলা’ নীতির কারণেই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান ৭ ত্রাণকর্মী

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছিল, সেনারা গাড়ির ভেতরে হামাসের সদস্য থাকার ভুল ধারণা থেকে হামলা চালিয়েছিল। আইডিএফ পরে স্বীকার করে যে ঘটনাটিতে গুরুতর ভুল হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।

১ দিন আগে

খারগ দ্বীপের কাছে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি করা হতো। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর অবরোধ আরোপের পর থেকে এই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

১ দিন আগে
Advertisement