১ লাখ ডলারের ক্রেডিট কার্ড বিল নিয়ে বিতর্ক, গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বললেন ট্রাম্প

গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক রাজনৈতিক দাতার কাছে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের এক লাখ ডলারের বিল পরিশোধে সহায়তা চাওয়া এবং এর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া সাংবাদিকদের বলেন, গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, গিলফয়েল প্রশাসনের জন্য ভালো সম্পদ ছিলেন এবং হোয়াইট হাউস তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন পাওয়ার আগে গিলফয়েল মার্কিন ব্যবসায়ী ও ট্রাম্পের সমর্থক এরিক ডিটার্সের কাছে তার আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের এক লাখ ডলারের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিটার্সের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত কথোপকথন অনুযায়ী, গিলফয়েল অর্থ পাঠানোর পদ্ধতিও ডিটার্সকে জানিয়েছিলেন। তবে ডিটার্স শেষ পর্যন্ত ওই বিল পরিশোধ করেননি। তার দাবি, গিলফয়েলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে নিজের ব্যবসায়িক ও আইনি বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়া গিলফয়েলের বিরুদ্ধে উপহার ও ব্যক্তিগত ভ্রমণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
অন্যদিকে গিলফয়েলের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, ডিটার্সের কাছে চাওয়া অর্থ ছিল আগে সম্পন্ন করা জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়া ও পরামর্শমূলক কাজের বকেয়া পারিশ্রমিক। এর সঙ্গে কোনো অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সম্পর্ক ছিল না।
ট্রাম্পও সোমবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গিলফয়েলকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তিনি সন্তুষ্ট নন। এর পরদিনই হোয়াইট হাউস তার পদত্যাগের অনুরোধের কথা জানায়।
ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
গিলফয়েল একসময় ফক্স নিউজের উপস্থাপক ছিলেন। পরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে তার বাগদান হয়েছিল ২০২০ সালে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প তাকে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেন। ২০২৫ সালে সিনেটের অনুমোদনের পর তিনি দায়িত্ব নেন।
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। ফলে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই, রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ ও সরকারি প্রভাবের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নও সামনে এসেছে।














-dcc02f-256x144.webp)


