হুতিদের হামলার শঙ্কায় প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে বাংকার-সুবিধাসহ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাসংবলিত এক প্রাসাদ থেকে তাকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুবরাজের নিরাপত্তায় বাছাই করা একটি দল নিয়োজিত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবার হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।
পরদিনও বিমানবন্দরে হামলা হয়। এতে আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে জানানো হয়েছে। হুতিরা এসব হামলার দায় স্বীকার করে সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে।
বারবার হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের কাছে আরও প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সৌদি যুবরাজের জন্য কেবল ব্যক্তিগত ঝুঁকি নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। তার নেতৃত্বে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রিয়াদে বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেস চলার মধ্যেও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বহু আন্তর্জাতিক নির্বাহীর অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ে। বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হুতিরা আবারও সৌদি স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে।
এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার ভয়াবহতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জবাব দেবে তাঁর দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, হুতিদের হামলার মুখে সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ঘটনা ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয় ছাড়িয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স


















