‘ককরোচদের’ ঠেকাতে দিল্লি পুলিশের অবরোধে ‘ক্ষতি ২০০০ কোটি’, আদালতে ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। ফাইল ছবি: এএনআই
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। ফাইল ছবি: এএনআই

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঠেকাতে গত শনিবার দিল্লি জুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। এতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়ে ২ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য যেসব স্থান নির্ধারণ করেছে, সেখানে নির্দিষ্ট বিধি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণের আবেদন জানিয়েছেন তারা। আজ মঙ্গলবার আবেদনগুলো জরুরি ভিত্তিতে শুনতে সম্মত হয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

মামলাকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী সচিন পুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নির্দিষ্ট বিধি প্রয়োগ করা হোক। সুপ্রিম কোর্ট তেমনটাই বলেছে। আমরা চাই আমাদের ন্যূনতম অধিকার রক্ষিত হোক।’ এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে জানান, দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি নিয়ে তিনি আপত্তি জানাননি।

ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম স্থগিত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কর্মসূচি ঠেকাতে আগেই দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে পুলিশ।

বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে দিল্লিতে এসে কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য দিল্লিগামী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ রাখা হয় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। শনিবার বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের কাছে যেতে দেয়নি পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে জমায়েতের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের আটক করে আটকশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের এ ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে জারি করা জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতা সৌরভ ও আশুতোষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেন দলটির নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বাঁচাতে’ বিজেপি কেন এত তৎপর, সেই প্রশ্নও তোলেন তারা।

মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) ময়দান এবং উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ। যন্তর মন্তর থেকে এসব স্থানের দূরত্ব যথাক্রমে ৩, সাড়ে ১৩ ও ৪৪ কিলোমিটার।

রামলীলা ময়দানে কর্মসূচি আয়োজন করতে প্রতিদিন গুনতে হবে ১ লাখ ২১ হাজার রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবে এই অর্থ দিয়েও চাইলেই সেখানে বিক্ষোভের আয়োজন করা যাবে না। কারণ, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন দিন মাঠটি ফাঁকা রয়েছে। বাকি দিনগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির জন্য মাঠটি আগেই বুক করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement