‘ফ্রি’ যন্তর মন্তরের বিপরীতে সোয়া লাখের রামলীলা, ২৬-এ ফাঁকা মাত্র ৩ দিন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ১৪
দিল্লির রামলীলা ময়দান। ফাইল ছবি
দিল্লির রামলীলা ময়দান। ফাইল ছবি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশের অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিকল্প হিসেবে যে তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি রামলীলা ময়দান। সেখানে কর্মসূচি আয়োজন করতে প্রতিদিন গুনতে হবে ১ লাখ ২১ হাজার রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবে এই অর্থ দিয়েও চাইলেই সেখানে বিক্ষোভ করা যাবে না। কারণ, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন দিন মাঠটি ফাঁকা রয়েছে। বাকি দিনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির জন্য আগেই বুক করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দিল্লি পুলিশ জানায়, দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে না।

দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো— পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) ময়দান এবং উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ। যন্তর মন্তর থেকে স্থানগুলো যথাক্রমে ৩, সাড়ে ১৩ ও ৪৪ কিলোমিটার দূরে।

রামলীলা ময়দানের আয়তন ১২ একর। সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশ হতে পারে। মাঠটি ব্যবহারের দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জামানত হিসেবে দিতে হয় আরও ৫৫ হাজার টাকা, যা ফেরতযোগ্য। এ ছাড়া কর যুক্ত হওয়ায় সব মিলিয়ে দৈনিক খরচ দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা।

মাঠটি ব্যবহারের অনুমতি নিতে হয় দিল্লি পৌরসভার উদ্যানপালন বিভাগ থেকে। তবে তার আগে পুলিশের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। এরপর নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে মাঠ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে। অবশ্য রামলীলা ময়দানের একটি ছোট অংশ সারা বছর বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ ১৫০ জনের জায়গা হবে।

এর আগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করতে আয়োজকদের কোনো ভাড়া দিতে হতো না। পুলিশের অনুমতি পেলেই কর্মসূচি আয়োজন করা যেত। ফলে নতুন নিয়মে বিক্ষোভের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকল্প স্থানগুলোতে কর্মসূচি আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে রামলীলা ময়দানের অবস্থান নিয়েও আপত্তি রয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত মাঠটির আশপাশে তিনটি হাসপাতাল ও দিল্লি পৌরসভার সদর দপ্তর রয়েছে। সেখানে বড় সমাবেশ হলে পুরো এলাকায় যানজট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দিল্লি পৌরসভার একটি সূত্রের দাবি, মাঠটি বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দিলে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে।

বর্তমানে ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর— এই তিন দিনই রামলীলা ময়দান ফাঁকা রয়েছে। দশেরা ও দীপাবলির মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য অন্য দিনগুলো আগেই বুক করা হয়েছে। ছোট ও মাঝারি আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক আন্দোলনের সাক্ষী রামলীলা ময়দান

বর্তমানে রামলীলা ময়দান নামে পরিচিত স্থানটিতে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। পরে পুকুরটি ভরাট করে মাঠ তৈরি করা হয়। রামলীলা উৎসব আয়োজনের জন্য মাঠটি ব্যবহৃত হওয়ায় এর নাম হয় রামলীলা ময়দান।

ভারত ভাগের পর পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের অস্থায়ী আশ্রয়শিবির হিসেবেও মাঠটি ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সভা-সমাবেশের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে এটি। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধী, জয়প্রকাশ নারায়ণ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এখানে সভা করেছেন। ১৯৬২ সালে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে এই মাঠে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

২০১৩, ২০১৫ ও ২০২০ সালে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রামলীলা ময়দানেই শপথ নেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন ও বড় সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মাঠে এখন বিক্ষোভ করতে হলে আয়োজকদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement