৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র, হবে এআই সংলাপ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ১০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হাত মেলাচ্ছেন। পাশে রয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী পেং লিইউয়ান। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল আর্কাইভস মিউজিয়াম পরিদর্শনের পর এ দৃশ্য দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হাত মেলাচ্ছেন। পাশে রয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী পেং লিইউয়ান। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল আর্কাইভস মিউজিয়াম পরিদর্শনের পর এ দৃশ্য দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বিলিয়ন ডলারের পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে সংলাপ শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় আট দফা ঐকমত্যের অধীনে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই পক্ষ বাণিজ্য কাউন্সিল গঠন এবং কুয়ালালামপুরে আগের আলোচনার ফল বাড়িয়ে নিতেও রাজি হয়েছে। এই চুক্তির আগে দুই অর্থনীতি ইতিমধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি দুই মাস বাড়িয়েছিল। সেই যুদ্ধবিরতি নভেম্বরের ১০ তারিখে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

শি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের শীর্ষ বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়েছে। বৈঠকে বড় ধরনের প্রকাশ্য অগ্রগতির চেয়ে ব্যক্তিগত কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শি ইতিমধ্যে বেইজিংয়ে ফিরেছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে বলেন, “এই ঐতিহাসিক সফর চীন-মার্কিন সম্পর্ককে আরও গঠনমূলক ও স্থিতিশীল করেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, নতুন অধ্যায় খুলেছে এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।”

এআই সংলাপের সিদ্ধান্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুই পক্ষ এর ঝুঁকি ও সুবিধা নিয়ে সংলাপ করতে সম্মত হয়েছে। পরবর্তী পর্বের আলোচনা নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এআই-সংক্রান্ত ঘটনার জন্য একটি যোগাযোগ চ্যানেলও তৈরি করা হবে।

চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েছে। সাধারণত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বলা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার করছে। চীন বলেছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই পক্ষের বিনিময় বাড়ানো এবং নতুন বাস্তবতার নিরিখে ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত।

দুই পক্ষ একে অপরকে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) নেতৃবৃন্দ সম্মেলন এবং জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে সহায়তা করতেও রাজি হয়েছে। উভয় নেতা একে অপরের আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। কোনো দেশ বা সংস্থা আন্তর্জাতিক জলপথে ট্রানজিট টোল চাপতে পারবে না।

তবে মার্কিন দূতাবাস এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই সমঝোতা বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে। তবে বড় বাণিজ্য চুক্তির পথে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শি-র সফর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে কি না, তা আগামী মাসগুলোতে স্পষ্ট হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement