মাদুরো-ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে এবার বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ

মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্যাতন-নিপীড়নের নতুন অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়েছে, ক্ষমতা ধরে রাখতে মাদুরো রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে নির্যাতন, নির্বিচারে আটক ও সহিংসতাকে একটি পদ্ধতিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে দেওয়া সংশোধিত অভিযোগপত্রে তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের এ অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক নজিরবিহীন অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওই সময় তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত করা হলো নতুন অভিযোগ।
২০২৭ সালের ১ জুন তাদের বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুজনেই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা রয়েছে। মাদুরোর নির্দেশে বন্দিদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, মারধর, একাকী বন্দিত্ব, শ্বাসরোধ ও পানিতে ডুবিয়ে মারার অভিনয় করা হতো বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন প্রসিকিউশন।
এক ঘটনায় এক বন্দিকে তার ছোট সন্তানকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আরেক মার্কিন নাগরিককে মাদুরোকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগে আটক করে বৈদ্যুতিক শক, শ্বাসরোধ ও এমন একটি পদার্থ জোর করে প্রয়োগ করা হয়, যেন তার খিঁচুনি শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
এই অভিযোগ এমন সময়ে এলো, যখন মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। জানুয়ারির সামরিক অভিযানের পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসেন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। এরপর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কারাকাসের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এই ঘনিষ্ঠতার কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার চুক্তি ঘোষণা করে। হোয়াইট হাউজের নথি বলছে, চুক্তিতে ১৭টি তেলক্ষেত্রে ১০০ বছরের কনসেশন, নতুন তেল কোম্পানিতে মার্কিন সরকারের ৩৫ শতাংশ অংশীদারি এবং উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার অধিকার রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, মাদুরোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন বিচারিক পদক্ষেপের পাশাপাশি তার পতনের পর ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের অভূতপূর্ব প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের সামরিক হস্তক্ষেপ, মাদুরোকে অপসারণ এবং দেশটির তেলসম্পদের ওপর নতুন মার্কিন নিয়ন্ত্রণ— তিনটি বিষয় এখন একই বৃহত্তর ভেনেজুয়েলা সমীকরণের অংশ হয়ে উঠেছে।




















