মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হলে যাবজ্জীবনের পক্ষে ৩৯% মার্কিনি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ক্রিস্টা গেইল পাইক। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টা গেইল পাইক। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে দণ্ডিত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাজা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। তবে প্রতি তিনজনের একজন জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড সাজা কার্যকরের চেষ্টা করা উচিত। আর ২৬ শতাংশ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি।

রয়টার্স/ইপসসের নতুন এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। টেনেসিতে গত মাসে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চার দিন ধরে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জরিপটি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

টেনেসির ন্যাশভিলে হত্যা মামলায় দণ্ডিত ক্রিস্টা পাইককে গত মাসে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ইনজেকশনে ব্যবহৃত বারবিচুরেট পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ কাজ না করায় তার মৃত্যু হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় অচেতন পাইককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার দুই হাতেও গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। পাঁচ দিন পর তার জ্ঞান ফেরে।

৫০ বছর বয়সী পাইক ছাড়াও এ বছর আরও একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয় টেনেসিতে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে একই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার আইনি ও নৈতিক সুযোগ কতটা থাকা উচিত।

রয়টার্স/ইপসসের জরিপ বলছে, এ বিষয়ে মার্কিন জনমত স্পষ্টভাবে বিভক্ত। এক-তৃতীয়াংশের মতো মানুষ দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে থাকলেও সবচেয়ে বড় একক অংশ— ৩৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের অভিমত, ব্যর্থ চেষ্টার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হোক।

মৃত্যুদণ্ডে সমর্থন কমেছে

সামগ্রিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে। জরিপে ৫৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। ২০১৭ সালের একই ধরনের রয়টার্স/ইপসস জরিপে এই হার ছিল ৬৩ শতাংশ।

এবার ৩১ শতাংশ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছেন। আরও ১৩ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।

বিশ্বের অনেক দেশই মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টিতেও এখন মৃত্যুদণ্ড নেই। যেসব অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে, সেসব জায়গায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওষুধ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কিছু অঙ্গরাজ্য প্রাণঘাতী ইনজেকশনের বিকল্প হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াডসহ অন্য পদ্ধতি বিবেচনা করছে।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করার প্রশ্নটিও এখন আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি অঙ্গরাজ্যকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর নতুন করে মৃত্যুদণ্ডের তারিখ নির্ধারণের সুযোগ দিয়েছে।

এর আগে ১৯৮৮ সালের একটি ভাড়াটে খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত কেনেথ স্মিথকে ২০২২ সালে আলাবামার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকক্ষে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মকর্তারা তার শরীরে প্রয়োজনীয় শিরাপথ স্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি। দুই বছর পর ২০২৪ সালে আলাবামা নতুন পদ্ধতি হিসেবে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে দ্বিতীয়বার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারেও আপত্তি

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আরেকটি বিতর্ক সামনে এসেছে— কার্যকরের দৃশ্য টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত কি না।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে টিভিতে।

এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেন। সমালোচকদের মধ্যে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও ছিলেন।

জরিপে ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে যথাযথ বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৭১ শতাংশ, আর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ২৯ শতাংশ।

কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে থাকা অনেকেও আবার সাজা কার্যকরের দৃশ্য জনসমক্ষে দেখানোর বিরোধিতা করেছেন। জরিপে ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে দেখানো অনুচিত। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই এ মত দিয়েছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad