ফোর্ট হুড হত্যাকাণ্ড: নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। আগামী ৩ ডিসেম্বর একই সামরিক ঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে বলেছিলেন, নিদালের মৃত্যুদণ্ড জনসাধারণের দেখার ব্যবস্থা করা হবে। তার ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বুঝতে হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে সম্প্রচারের বিস্তারিত পদ্ধতি এখনো জানানো হয়নি।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি সেনা প্রস্তুতি কেন্দ্রে গুলি চালান তৎকালীন সেনা মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। আফগানিস্তানে মোতায়েনের আগে চালানো ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১২ জন কর্মরত সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।
২০১৩ সালে সামরিক আদালত হাসানকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেন। দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আবেদন পর্যালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেন। এরপর সেনাবাহিনী ৩ ডিসেম্বর সেই সাজা কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করে।
প্রায় সাড়ে ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য মৃত্যুদণ্ড সাজা পেতে যাচ্ছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বশেষ নজির আরও আগের— ১৯৪৫ সালে।
মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সাধারণত জনসাধারণের আড়ালেই রাখা হয়। আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এ ধরনের সম্প্রচার দণ্ড কার্যকরের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডকে জনসমক্ষে প্রদর্শনীতে পরিণত করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
















