ভারতে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল নিয়ে বিতর্ক, ১১ লাখ উত্তরপত্র দেখতে চেয়ে আবেদন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভারতের দ্বাদশ শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মূল্যায়নে ভুলের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নম্বর প্রদানে গরমিলের অভিযোগ তুলেছে হাজারো শিক্ষার্থী। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতি ও বিপুল গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির এই সমাপনী পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার ৮৫ দশমিক ২০ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৮৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গত ১৩ মে ফল প্রকাশের পর থেকে ৪ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী মোট ১১ লাখ উত্তরপত্র দেখতে চেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কাছে আবেদন করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় এ বছর প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।

শনিবার (৩০ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবর বলা হয়, ভারতের স্কুল সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত নম্বরে নানা ধরনের গরমিলের অভিযোগ তুলতে শুরু করে। তারা শিক্ষা বোর্ডের চালু করা একটি নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতিকে দায়ী করছে।

তবে সরকারিভাবে পরিচালিত দেশটির সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) জানিয়েছে, মানবিক ভুল (হিউম্যান এরর) কমিয়ে আনা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই নতুন 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' (ওএসএম) সিস্টেম চালু করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা সুবিধার বদলে উল্টো ভুল নম্বর দিয়ে প্রাপ্ত গ্রেড নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এই নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল উত্তরপত্র প্রথমে স্ক্যান করে একটি অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা হয়। শিক্ষকরা কম্পিউটারের স্ক্রিনে সেই স্ক্যান করা খাতা দেখে মূল্যায়ন করেন এবং পরে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোট নম্বর গণনা করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, পোর্টালে আপলোড করা স্ক্যান করা অনেক খাতা ছিল অসম্পূর্ণ। অন্যদিকে, অনেকে ভুল মূল্যায়ন, ঝাপসা স্ক্যান এবং একজনের খাতার জায়গায় অন্য জনের খাতা চলে আসার মতো মারাত্মক সব অসঙ্গতির কথা জানিয়েছেন।

গীতি মোজা নামে এক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, বোর্ডের দেওয়া 'অফিসিয়াল উত্তরপত্রে'র সঙ্গে তার মেয়ের দেওয়া উত্তর হুবহু মিলে যাওয়ার পরও তাকে অন্তত ৩০ নম্বর কম দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কি আদৌ বোঝে যে একজন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছে ৩০-৩৫ নম্বরের মূল্য কতখানি? যার পুরো ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়াটিই নির্ভর করছে এই স্কোরের ওপর। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করা হচ্ছে।’

এই গরমিলের বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিল্লির শিক্ষার্থী বেদান্ত শ্রীবাস্তবের একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর। বেদান্ত অভিযোগ করেন, আবেদন করার পর বোর্ড তাকে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার যে খাতাটি পাঠিয়েছে, সেটি আদতে তার খাতাই নয়। তিনি জানান, ওই খাতার হাতের লেখা তার নয় এবং সেখানে এমন সব উত্তর লেখা রয়েছে যা তিনি পরীক্ষায় কখনো লেখেননি।

বেদান্ত লেখেন, ‘আমি পুরো একটা বছর কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই পরীক্ষার জন্য নিজের ঘুম, মানসিক শান্তি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা— সব বিসর্জন দিয়েছিলাম। আর এখন আমি এটাই জানি না যে আমার আসল ফিজিক্স খাতাটি আদৌ দেখা হয়েছে কি না!’

এই ঘটনার কয়েক দিন পর বোর্ড ইমেইলের মাধ্যমে বেদান্তকে তার উত্তরপত্রের আরেকটি কপি পাঠায়, যেটিকে তারা ‘সঠিক খাতা’ বলে উল্লেখ করে।

তবে বেদান্তর এই অভিযোগের পর দেশ জুড়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে শুরু করে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেন, তাদের খাতায় ভুল নম্বর দেওয়া হয়েছে, কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত ছিল অথবা যে উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে, তা তাদের নয়।

শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র আট দিন আগে বোর্ড আচমকা এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর ঘোষণা দেয়। এর ফলে শিক্ষকরা খাতা দেখার এত বড় এবং জটিল একটি ডিজিটাল পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেননি।

দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নতুন এই পদ্ধতিতে ‘কিছু অসঙ্গতি’ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে দায়িত্ব নিচ্ছি এবং সবাইকে নিশ্চিত করছি যে দ্রুতই এর একটি সমাধান খুঁজে বের করা হবে।’

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ভারত সফরে গেলেন সেনাপ্রধান থেকে মিয়ানমারের ‘বেসামরিক’ প্রেসিডেন্ট হ্লাইং

জয়সওয়াল বলেন, এই সফর আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকেই প্রতিফলিত করে।

১৬ ঘণ্টা আগে

এশিয়া থেকে ‘হাত গোটাচ্ছে না’ যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর তাগিদ

শনিবার (৩০ মে) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এশিয়ার এ নিরাপত্তা মঞ্চে ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান কেমন হবে, তা নিয়ে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য সামনে এলো।

১৯ ঘণ্টা আগে

ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বৈঠক করলেও সিদ্ধান্ত আসেনি

ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।

১ দিন আগে

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত শিগগিরই, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তাবিত সমঝোতা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবেন। এই চুক্তি কার্যকর হলে এপ্রিলের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।

১ দিন আগে