ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৩০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং এর ফলে সৃষ্ট লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস-এর নতুন জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে এখন ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন রেটিং।

এর আগে মার্চ ও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তার জনপ্রিয়তা ছিল ৩৬ শতাংশ। জনপ্রিয়তার এই হার হ্রাসের প্রতিফলন ঘটেছে তার নেতিবাচক রেটিংয়েও। ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট মার্কিন নাগরিকদের হার এখন ৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চে ছিল ৬২ শতাংশ।

জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বর্তমান জনপ্রিয়তা তার প্রথম মেয়াদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হারের সমান। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার ছয় দিন পর রয়টার্স/ইপসোস-এর জরিপে তার জনপ্রিয়তা একই পর্যায়ে নেমেছিল। তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন রেটিং ছিল ৩৩ শতাংশ, যা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রেকর্ড করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

নতুন জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা হারিয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। বর্তমানে মাত্র ২৭ শতাংশ নাগরিক তার অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় সন্তুষ্ট মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক, যা গত মার্চে ছিল ২৫ শতাংশ।

দলের ভেতরেও ট্রাম্প কিছুটা চাপে পড়েছেন। যদিও এখনো ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান তাকে সমর্থন করছেন, তবে তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান সংকট মোকাবিলায় তার ভূমিকার প্রতি সমর্থন কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাসগুলোতে যথাক্রমে ৩৮ ও ৩৬ শতাংশ ছিল।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ওয়াশিংটন হিলটনে ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ ডিনারে হামলার ঘটনার আগেই এই জরিপটি সম্পন্ন করা হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলার ঘটনা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নতুন কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নর্ক সেন্টারের গত বুধবারের জরিপ আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। সেই জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা মার্চ থেকে ৮ পয়েন্ট কমে মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দামের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হলে তেলের দাম কমে আসবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সময়ে শান্তি প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা ছিল ইরানের।

গত সোমবার তেহরান একটি শান্তি প্রস্তাব জমা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। রুবিওর মতে, ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নেই, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

গত ১৫ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে এক হাজার ১৪ জন উত্তরদাতার ওপর এই রয়টার্স/ইপসোস জরিপটি চালানো হয়। এই জরিপে ভুলের মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্য ও বৈদেশিক নীতির জটিলতায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জনপ্রিয়তা এখন খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে।

রাজনীতি/একে

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের সঙ্গে বৈরিতার মধ্যেই ২ মুসলিম শক্তিধর দেশকে পাশে পেল সৌদি

চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে ‘তিন দেশের সবার ওপর হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিন দেশের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ‘যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা’ এবং ‘তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিক আরও

১৮ ঘণ্টা আগে

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে নৌপথ খুলছে না: ইরান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতাকে যুদ্ধ বন্ধে বৃহত্তর একটি চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

২০ ঘণ্টা আগে

বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ চলে।

১ দিন আগে

শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত ৮: অস্ত্র আইন কঠোর হচ্ছে থাইল্যান্ডে

থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এমন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন, যাতে জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। নতুন আইনে শুধু দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

১ দিন আগে