
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এ ভয়াবহ হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বড় ধরনের আগুন লেগেছে। গোটা অঞ্চলে আকাশ থেকে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বৃষ্টির মতো ঝরে পড়েছে। অন্তত চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারী হামলার দিনগুলোতেও ড্রোনের সংখ্যা যেখানে দুই অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে এ হামলায় মস্কো প্রায় দুই শ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সারা দেশ মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় হাজার। চার বছরেরও বেশি সময় আগে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভের ড্রোন সক্ষমতা যে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, এ হামলা তারই উদাহরণ।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শেষ রাত পর্যন্ত রাশিয়ার রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলাটি রাশিয়ার এক বিশাল এলাকা জুড়ে চালানো ইউক্রেনীয় আক্রমণের অংশ ছিল। হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী আজভ সাগরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক হাজার ড্রোন প্রতিহত করেছে।
রুশ বিমান চলাচল সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ হামলার কারণে বৃহস্পতিবার মস্কোর প্রধান প্রধান সব বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভ দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার একটি অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইউনেস্কো-স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক মঠ কমপ্লেক্সে রাশিয়ার হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির জবাবে বৃহস্পতিবারের এই আক্রমণকে একটি ‘যৌক্তিক’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এই যুদ্ধ চাইনি এবং কখনোই চাই না— সবাই এটা জানে, আমাদের সহযোগীরাও জানে। কিন্তু ইউক্রেন যদি আগুনে পুড়ে, তবে আপনাদের মস্কোও পুড়বে। এ কারণেই আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি— এই আগ্রাসন বন্ধ করার সময় এসেছে, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।
ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ক্রেমলিন থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণপূর্ব কাপোতনিয়া জেলায় অবস্থিত মস্কো তেল শোধনাগার। গত মঙ্গলবারও এই শোধনাগারটিতে আঘাত হেনেছিল ইউক্রেন।
সিএনএনের ভূ-স্থানিক অবস্থান (জিওলোকেশন) নিশ্চিত করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রোনগুলো শোধনাগারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় একটি রাস্তা থেকে স্থল-উৎক্ষেপণকারী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগারের একটি অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটছে, যার ধাক্কায় একটি বড় জ্বালানি ট্যাংকের ছাদ উড়ে গিয়ে আকাশে আছড়ে পড়ছে।
সিএনএন কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বিকট বিস্ফোরণ, ঘন ধোঁয়া ও পোড়া তীব্র গন্ধের মধ্যে ঘুম ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কাপোতনিয়ার লাগোয়া জেলা মারিনোর বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী নাতালিয়া ক্লিমোভা তার মায়ের সঙ্গে থাকেন। তিনি বলেন, গন্ধ খুবই ভয়ানক ছিল। আমরা জানালা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, তাও অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। সত্যি বলতে, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর।
ক্লিমোভা জানান, তিনি অন্তত ১০টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং নিরাপত্তার জন্য বাথরুমে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে থাকা আয়নাটি কাঁপছিল এবং পুরো ভবনটি কেঁপে উঠছে বলে মনে হচ্ছিল। শব্দ এতটাই বিকট ছিল যে তার মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যায়। কিন্তু ভয়ে মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাইরে বের হতে পারেননি ক্লিমোভা।
মারিনোর আরেক বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী মারিয়া জানান, বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং পরে তিনি এলাকা ছেড়ে শহরতলীতে তার মায়ের ডাচায় (গ্রামের বাড়ি) চলে যান।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এই প্ল্যান্টটি আজ হোক বা কাল পুড়বেই। তাই জিনিসপত্র গুছিয়ে মায়ের ডাচায় চলে এসেছি। মস্কো তেল শোধনাগারে আঘাতের ঘটনা এই প্রথম নয় বলেও জানান তিনি।
কয়েক বছর ধরে ইউক্রেনের যুদ্ধের ছবি ও ভিডিও দেখতে দেখতে নিজের মধ্যে এক ধরনের মানসিক অসাড়তা তৈরি হওয়ার কথা বর্ণনা করে মারিয়া বলেন, আমি মনে করি, ইউক্রেনের সেই সব ছবি ও ভিডিও দেখে আমার ভেতরের আবেগ অনেক আগেই পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আর এখন এটা আমার এত কাছাকাছি ঘটছে, তাও যেন আমি কিছুই অনুভব করতে পারছি না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দারা গাড়ির ওপর ও জানালার কার্নিশে পড়া কালো বৃষ্টির পানির ছবি পোস্ট করেছেন, যা তেল-মিশ্রিত বৃষ্টি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ ‘তেল বৃষ্টি’র বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে বাসিন্দাদের ‘বাইরে থাকার সময় কমিয়ে আনা’র পরামর্শ দিয়েছে তারা।
এদিকে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য, রাশিয়াও ইউক্রেনে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ছুড়ে পালটা জবাব দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ও রুশ কর্তৃপক্ষের মতে, এ হামলায় কিয়েভ ও পোলতাভা উভয় অঞ্চলের একটি বেসরকারি বাড়ি, একটি জ্বালানি অবকাঠামো সুবিধা, একটি হ্যাঙ্গার এবং তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, মস্কো ইউক্রেনের এমন সব লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত হামলা চালাবে যা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে নৌ স্থাপনা, তেলের ডিপো ও টার্মিনাল রয়েছে। কিছু হামলা লেনিনগ্রাদ অঞ্চলেও সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যাকে প্রায়শই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘দাভোস’ সংস্করণ বলা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বাজেটের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব আসে তেলের আয় থেকে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেল কেনার ক্রেতার সংখ্যা সংকুচিত হয়েছে, যদিও ইরানের যুদ্ধ মস্কোর জন্য একটি অপ্রত্যাশিত লাভ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিথিল হওয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে মস্কো সুবিধা পেয়েছে।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সমাবেশের পরপরই বৃহস্পতিবারের এ হামলা চালানো হলো। ওই সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনকে আরও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার ব্যাপারে ‘সবাই’ একমত হয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পরামর্শগুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প রাশিয়াকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন, যা এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘রাশিয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ হারিয়েছে, এবং ইউক্রেনও হারিয়েছে।’

যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এ ভয়াবহ হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বড় ধরনের আগুন লেগেছে। গোটা অঞ্চলে আকাশ থেকে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বৃষ্টির মতো ঝরে পড়েছে। অন্তত চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারী হামলার দিনগুলোতেও ড্রোনের সংখ্যা যেখানে দুই অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে এ হামলায় মস্কো প্রায় দুই শ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সারা দেশ মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় হাজার। চার বছরেরও বেশি সময় আগে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভের ড্রোন সক্ষমতা যে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, এ হামলা তারই উদাহরণ।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শেষ রাত পর্যন্ত রাশিয়ার রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলাটি রাশিয়ার এক বিশাল এলাকা জুড়ে চালানো ইউক্রেনীয় আক্রমণের অংশ ছিল। হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী আজভ সাগরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক হাজার ড্রোন প্রতিহত করেছে।
রুশ বিমান চলাচল সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ হামলার কারণে বৃহস্পতিবার মস্কোর প্রধান প্রধান সব বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভ দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার একটি অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইউনেস্কো-স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক মঠ কমপ্লেক্সে রাশিয়ার হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির জবাবে বৃহস্পতিবারের এই আক্রমণকে একটি ‘যৌক্তিক’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এই যুদ্ধ চাইনি এবং কখনোই চাই না— সবাই এটা জানে, আমাদের সহযোগীরাও জানে। কিন্তু ইউক্রেন যদি আগুনে পুড়ে, তবে আপনাদের মস্কোও পুড়বে। এ কারণেই আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি— এই আগ্রাসন বন্ধ করার সময় এসেছে, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।
ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ক্রেমলিন থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণপূর্ব কাপোতনিয়া জেলায় অবস্থিত মস্কো তেল শোধনাগার। গত মঙ্গলবারও এই শোধনাগারটিতে আঘাত হেনেছিল ইউক্রেন।
সিএনএনের ভূ-স্থানিক অবস্থান (জিওলোকেশন) নিশ্চিত করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রোনগুলো শোধনাগারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় একটি রাস্তা থেকে স্থল-উৎক্ষেপণকারী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগারের একটি অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটছে, যার ধাক্কায় একটি বড় জ্বালানি ট্যাংকের ছাদ উড়ে গিয়ে আকাশে আছড়ে পড়ছে।
সিএনএন কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বিকট বিস্ফোরণ, ঘন ধোঁয়া ও পোড়া তীব্র গন্ধের মধ্যে ঘুম ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কাপোতনিয়ার লাগোয়া জেলা মারিনোর বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী নাতালিয়া ক্লিমোভা তার মায়ের সঙ্গে থাকেন। তিনি বলেন, গন্ধ খুবই ভয়ানক ছিল। আমরা জানালা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, তাও অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। সত্যি বলতে, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর।
ক্লিমোভা জানান, তিনি অন্তত ১০টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং নিরাপত্তার জন্য বাথরুমে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে থাকা আয়নাটি কাঁপছিল এবং পুরো ভবনটি কেঁপে উঠছে বলে মনে হচ্ছিল। শব্দ এতটাই বিকট ছিল যে তার মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যায়। কিন্তু ভয়ে মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাইরে বের হতে পারেননি ক্লিমোভা।
মারিনোর আরেক বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী মারিয়া জানান, বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং পরে তিনি এলাকা ছেড়ে শহরতলীতে তার মায়ের ডাচায় (গ্রামের বাড়ি) চলে যান।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এই প্ল্যান্টটি আজ হোক বা কাল পুড়বেই। তাই জিনিসপত্র গুছিয়ে মায়ের ডাচায় চলে এসেছি। মস্কো তেল শোধনাগারে আঘাতের ঘটনা এই প্রথম নয় বলেও জানান তিনি।
কয়েক বছর ধরে ইউক্রেনের যুদ্ধের ছবি ও ভিডিও দেখতে দেখতে নিজের মধ্যে এক ধরনের মানসিক অসাড়তা তৈরি হওয়ার কথা বর্ণনা করে মারিয়া বলেন, আমি মনে করি, ইউক্রেনের সেই সব ছবি ও ভিডিও দেখে আমার ভেতরের আবেগ অনেক আগেই পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আর এখন এটা আমার এত কাছাকাছি ঘটছে, তাও যেন আমি কিছুই অনুভব করতে পারছি না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দারা গাড়ির ওপর ও জানালার কার্নিশে পড়া কালো বৃষ্টির পানির ছবি পোস্ট করেছেন, যা তেল-মিশ্রিত বৃষ্টি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ ‘তেল বৃষ্টি’র বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে বাসিন্দাদের ‘বাইরে থাকার সময় কমিয়ে আনা’র পরামর্শ দিয়েছে তারা।
এদিকে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য, রাশিয়াও ইউক্রেনে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ছুড়ে পালটা জবাব দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ও রুশ কর্তৃপক্ষের মতে, এ হামলায় কিয়েভ ও পোলতাভা উভয় অঞ্চলের একটি বেসরকারি বাড়ি, একটি জ্বালানি অবকাঠামো সুবিধা, একটি হ্যাঙ্গার এবং তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, মস্কো ইউক্রেনের এমন সব লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত হামলা চালাবে যা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে নৌ স্থাপনা, তেলের ডিপো ও টার্মিনাল রয়েছে। কিছু হামলা লেনিনগ্রাদ অঞ্চলেও সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যাকে প্রায়শই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘দাভোস’ সংস্করণ বলা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বাজেটের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব আসে তেলের আয় থেকে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেল কেনার ক্রেতার সংখ্যা সংকুচিত হয়েছে, যদিও ইরানের যুদ্ধ মস্কোর জন্য একটি অপ্রত্যাশিত লাভ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিথিল হওয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে মস্কো সুবিধা পেয়েছে।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সমাবেশের পরপরই বৃহস্পতিবারের এ হামলা চালানো হলো। ওই সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনকে আরও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার ব্যাপারে ‘সবাই’ একমত হয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পরামর্শগুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প রাশিয়াকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন, যা এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘রাশিয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ হারিয়েছে, এবং ইউক্রেনও হারিয়েছে।’

ভারতীয় সংস্থাগুলোর গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে এ ধরনের বিশাল বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ভাটির প্রভাব নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই নির্মাণ কাজের গতি বেশ বেড়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম বিস্তারের অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেছেন— ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই দুই দেশে সংগঠনটির তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল।
১৩ ঘণ্টা আগে
টানা প্রায় চার মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি বসছেন মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা। দুই দেশের এই শীর্ষ বৈঠকের ওপর এখন নির্ভর করছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পথে এমন কিছু জটিল ও সংবেদনশীল বাধা রয়েছে, যা যেকোনো মুহ
১৪ ঘণ্টা আগে
এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক শীতল সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমনটাই জানা গেছে বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
১৪ ঘণ্টা আগে