কিয়েভে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০, ইউক্রেনে শোক দিবস

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে কিয়েভে এটিই রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলা।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) কিয়েভে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। শহরজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান, এখনো নিখোঁজ অনেকে
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, এই হামলায় আরও অন্তত ৯২ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
মেয়র আরও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ বছর বয়সী এক বালকের বাবা-মা এবং ১৫ বছরের এক কিশোরী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া কিছু মরদেহের অবস্থা এতটাই বিকৃত যে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো শনাক্তের চেষ্টা করছেন। কিয়েভের পাশাপাশি উত্তর সুমি অঞ্চলেও রাশিয়ার ড্রোন হামলায় এক নারী ও তার শিশুসন্তানসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
পুতিনের লক্ষ্য কেবল ধ্বংসযজ্ঞ: জেলেনস্কি
ভয়াবহ এই হামলার পর এক আবেগঘন ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, "ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বেসামরিক মানুষ হত্যা ছাড়া রাশিয়ার এই যুদ্ধের আর কোনো যুক্তি নেই। পুতিন যুদ্ধ শেষ করার বদলে মানুষের আবাসিক ভবন ধ্বংস করতেই বেশি আগ্রহী।"
জেলেনস্কি জানান, এই হামলায় শতাধিক আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা কিয়েভের ইতিহাসে অন্যতম বড় ধ্বংসযজ্ঞের নজির।
হামলার কারণ নিয়ে রাশিয়ার দাবি
মস্কোর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার 'প্রতিশোধ' হিসেবেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই রাশিয়া ইউক্রেনের বড় শহরগুলোতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

















