পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ১৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পানামার দক্ষিণ উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বাড়িঘর ও বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে ছয়টি প্রদেশে। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল। ভূমিকম্পের পর এক ডজনের বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা। ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১টা) পানামায় আঘাত হানে এই উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) বরাত দিয়ে জাতীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেম’-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ১ মিনিট। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল (এপিসেন্টার) ছিল রাজধানী পানামা সিটি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা প্রদেশের ছোট শহর পিতালেজো আরির্বায়, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১২.৫ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত।

শুরুতে ইউএসজিএস এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৮.০ বলে ধারণা করলেও পরে তা সংশোধন করে ৭.৭ নির্ধারণ করে। ভূপৃষ্ঠের তুলনামূলক অগভীর অংশে এপিসেন্টার হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। প্রায় ৭৫ হাজার ৪১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ ২৭ হাজার। ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ৪৫ লাখ মানুষই শুক্রবারের এই শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন।

মূল ভূমিকম্পটির পর পানামায় বেশ কয়েকটি পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির ভূ-বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, প্রায় ৮০টিরও বেশি আফটারশক হয়েছে, যার মধ্যে একটির মাত্রা ৬.০-এর বেশি ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, পানামা সিটির বহুতল ভবনগুলো থেকে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত পথে নেমে আসছেন। ৪৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সালোমন অ্যান্ডিয়ন বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম, কারণ কম্পনটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী। ঘরের আলমারি, বিছানা এবং রান্নাঘরের সব ভারী জিনিসপত্র তীব্রভাবে কাঁপছিল।” দ্বিতীয়বার আফটারশকের সময় নিজের ১৫ তলা ভবন থেকে নেমে আসার পর তিনি এই অনুভূতি জানান।

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২০ তলারও বেশি উঁচু একটি ভবনের ছাদের সুইমিং পুল থেকে জল উপচে নিচে পড়ছে। আরেকটি ভিডিওতে পানামা খালের ওপর অবস্থিত একটি বড় সেতুকে তীব্রভাবে কাঁপতে দেখা গেছে; তবে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলেও সেতুটি অক্ষত রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, “আমরা একটি বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছি।” তিনি আরও জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি রাস্তা ধসে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

মধ্য কোকলে প্রদেশের পেনোনোমে শহরের এক দোকানের ক্যাশিয়ার জুয়ানা আলভিও বলেন, “এটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ, এমন অভিজ্ঞতা আমাদের আগে কখনো হয়নি। ঘটনার সময় আমার মেয়ে স্কুলেই আটকে পড়েছিল।”

বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘পানামা খাল’ এই দেশের ভূখণ্ডেই অবস্থিত। ভূমিকম্পের পরপরই পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পানামা খাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পের কারণে প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোগকারী ঐতিহাসিক জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি বা তা ব্যাহত হয়নি।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফার্নান্দো বয়েড জানিয়েছেন— হেরেরা, কোকলে এবং লস সান্তোস—এই তিনটি প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। সড়ক ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লস সান্তোসের টোনোসি শহরটি পুরো দেশের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, “আমরা আকাশপথে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি, কারণ স্থলপথে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব।”

ভূমিকম্পের পরপরই পানামা সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে পানামায় ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালা ইতিমধ্যেই সংহতি প্রকাশ করেছে এবং সাহায্য ও ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement