মার্কিন চাপে খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেয়নি ১৩ দেশ, অন্যদেরও হুমকি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৩৫
শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শ্রদ্ধা জানানোর পর আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বিদেশি প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও কূটনৈতিক প্রচারণার মুখে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যে অন্তত ১৩টি দেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ ঠেকাতে গত কয়েক দিনে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি কয়েকটি দেশকে উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। তারা ইরানি কর্মকর্তা ও শোকাহত মানুষের সঙ্গে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লায় উপস্থিত হয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে যে ১৩টি দেশ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউরোপের তিনটি দেশ, আফ্রিকার পাঁচটি দেশ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি আরব দেশ এবং পূর্ব এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

ওই সূত্রের দাবি, গত পাঁচ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশকে আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের উদ্দেশে একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেন। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই নির্দেশনার সব প্রাপক স্বাগতিক দেশের কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধ্য থাকবেন যে, ইরানের নেতার দাফন অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি অমিত্রসুলভ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন, মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের সমপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এ ছাড়া আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ওই দেশগুলো যদি আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, তাহলে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।

তাসনিমের খবরে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ ইতোমধ্যে খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণের মাত্রা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাজ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অথবা জেনেভা ও নিউইয়র্কে থাকা তাদের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ এবং নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

এ ছাড়া এসব দেশের কয়েকটি তেহরানে অবস্থানরত নিজেদের কূটনীতিকদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে তাসনিম।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

গালিবাফ-আরাগচিকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ ইসরায়েলের, সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

গত এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার সময় ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্বারীদের হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ করেছিল ইসরায়েল। আর এ বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্র। বলেছিল, তেহরান যেন এ পরিকল্পনার বিষয়ে সজাগ থাকে।

৮ ঘণ্টা আগে

৪ মাস পর দাফন আলি খামেনির, ইরান বলছে যুদ্ধের কারণে দেরি

যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার প্রকাশ্য জানাজা ও দাফন স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে দেশটি।

৯ ঘণ্টা আগে

শোকযাত্রার আগে আলি খামেনির জানাজায় জনতার ঢল

এদিকে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ইরানে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। মুসলিম দেশগুলো থেকে শুরু রাশিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকার দেশ থেকেও সেখানে হাজির হয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানে আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

৯ ঘণ্টা আগে

খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তা ইরানের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে টানা ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এই আয়োজনকে শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং জাতীয় শক্তি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সংহতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ইরান।

২১ ঘণ্টা আগে