
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানের একটি বিশাল হলঘরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়। সেখানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং অসংখ্য শোকাহত মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন ও বিপ্লবী চেতনার প্রদর্শন হিসেবে খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী গণশোক ও শেষযাত্রার আয়োজন করেছে ইরান। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনেই হামলায় নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
শনিবার (৪ জুলাই) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দাফনের আগে খামেনির মরদেহ ইরান ও ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র কোম, নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার ইরানের অন্যতম পবিত্র তীর্থনগরী মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রথমবারের মতো খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়। এ সময় হাজারো ইরানি কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকগীতি গাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা দুলতে থাকেন এবং মাথায় আঘাত করতে থাকেন। কফিনের ওপর ফুল ছুড়ে দেওয়া হলে সেগুলো পরে জনতার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার খামেনির কফিনের পাশাপাশি তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনও তার পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্মরণে নির্মিত ইরানের সর্ববৃহৎ মসজিদ ও ধর্মীয়-রাষ্ট্রীয় সমাবেশস্থল তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়।
এ দাফন অনুষ্ঠান এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মনে করছে, তারা নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে গেছে।
আগামী কয়েক দিনের শোক মিছিলে লাখো মানুষকে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রায় পাঁচ দশক পর খামেনির দাফনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের সরকারি প্রচারণা চললেও বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
তাদের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন এখন অত্যন্ত দুর্বল। এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি, যিনি তার বাবাকে হত্যার সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন, এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা দেননি।

বহু বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ধারাবাহিক গণবিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে, যা নিরাপত্তা বাহিনী ক্রমবর্ধমান কঠোরতার সঙ্গে দমন করেছে। জানুয়ারিতে এসব দমন অভিযানে হাজারো বিক্ষোভকারী নিহত হন।
তবে এসব গভীর সংকটকে আপাতত আড়ালে রেখে রাষ্ট্রীয় শক্তি ও জনসমর্থনের প্রদর্শনে মনোযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তেহরানের প্রধান সড়কজুড়ে সেনা ও পুলিশের যান মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এবং কালো পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সদস্যরা মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছেন। দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে যেকোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে ইরান।
শুক্রবার কফিনগুলো জনতার উঁচু করে ধরা হাতের ওপর দিয়ে বহন করে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। এরপর একটি সাদা ধাপযুক্ত মঞ্চে কফিনগুলো রাখা হয়। পেছনে ছিল নকশা খচিত উঁচু খিলান এবং দুই পাশে জাতীয় পতাকা ও কালো শোকের পতাকা।
খামেনির কফিনের ওপর একটি ভাঁজ করা চেক নকশার স্কার্ফের ওপর রাখা ছিল কালো পাগড়ি। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর দাবি করা শিয়া আলেমরা সাধারণত এ ধরনের পাগড়ি পরেন। ইরানে ওই স্কার্ফকে বিপ্লবী আদর্শ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের উপপ্রধান হে ওয়েই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আহমেদিসহ বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়েহর পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শুক্রবার সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা একে একে এসে কফিনের সামনে দোয়া করেন এবং শোক প্রকাশ করেন। একদল জেনারেল কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে সামরিক সালাম জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া বিপ্লবী গার্ডের প্রধান আহমাদ বাহিদি, যিনি হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় নিয়োগের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা দেননি।
শোকের আবহে ইরান-ইরাক
ইরানের ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় খামেনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধান বা বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা ছিলেন না; তিনি শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের প্রতিনিধি হিসেবেও বিবেচিত হতেন। নবম শতকে দ্বাদশ ইমাম অন্তর্ধান করেন বলে শিয়াদের বিশ্বাস।
শত্রুর হামলায় তার মৃত্যু শিয়া ধর্মের শহীদ ও শোক পালনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ ঐতিহ্যে শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বুক বা পিঠে আঘাত করে শোক প্রকাশ করেন।
এই প্রতীকী শোকের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে খামেনির মৃত্যুর পর থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে টানানো কালো শোকের পতাকায়। এগুলো সপ্তম শতকে শিয়া ইসলামের তৃতীয় ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের স্মরণ বহন করে।

তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বৃহস্পতিবার রাতভর বহু মানুষ কান্না ও স্লোগান দিতে থাকেন। বাসিজ বাহিনীর এক সদস্য তাদের নেতৃত্ব দেন। অন্যরা নিহত খামেনির ছবি সম্বলিত পোস্টার বিতরণ করেন।
ইসফাহান থেকে আসা ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোবিনা রেজাঘি, যিনি সহপাঠীদের সঙ্গে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, শুধু তার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধহীন না রাখার মাধ্যমেই মানুষের এই শোক কিছুটা লাঘব হতে পারে।’
খামেনির পাশের কফিনগুলোতে রাখা হয়েছে তার সঙ্গে নিহত তার মেয়ে, জামাতা, শিশু নাতনি এবং ছেলে মোজতবার স্ত্রীকে।
যুদ্ধের কারণে দাফনে দেরি
ইসলামী রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর এক দিনের মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে বড় ধরনের দাফন অনুষ্ঠান আয়োজনের ঝুঁকি থাকায় তা স্থগিত করা হয়। গত মাসে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির চুক্তি হওয়ার পর দাফনের আয়োজন করা হয়েছে।
শোকযাত্রীদের জন্য হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, মসজিদ ও ক্রীড়া হলগুলোকে অস্থায়ী আবাসনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাস ও রেল যোগাযোগও প্রধান অনুষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বড় শোক মিছিলের পর খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র কোম শহরে। সেখানে মঙ্গলবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান হবে। সেখানে ইরানের আঞ্চলিক শিয়া মিত্রগোষ্ঠীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সবশেষে বৃহস্পতিবার আরেকটি শোক মিছিলের পর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে খামেনিকে দাফন করা হবে। ইরানে ইমাম রেজা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানের একটি বিশাল হলঘরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়। সেখানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং অসংখ্য শোকাহত মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন ও বিপ্লবী চেতনার প্রদর্শন হিসেবে খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী গণশোক ও শেষযাত্রার আয়োজন করেছে ইরান। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনেই হামলায় নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
শনিবার (৪ জুলাই) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দাফনের আগে খামেনির মরদেহ ইরান ও ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র কোম, নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার ইরানের অন্যতম পবিত্র তীর্থনগরী মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রথমবারের মতো খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়। এ সময় হাজারো ইরানি কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকগীতি গাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা দুলতে থাকেন এবং মাথায় আঘাত করতে থাকেন। কফিনের ওপর ফুল ছুড়ে দেওয়া হলে সেগুলো পরে জনতার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার খামেনির কফিনের পাশাপাশি তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনও তার পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্মরণে নির্মিত ইরানের সর্ববৃহৎ মসজিদ ও ধর্মীয়-রাষ্ট্রীয় সমাবেশস্থল তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়।
এ দাফন অনুষ্ঠান এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মনে করছে, তারা নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে গেছে।
আগামী কয়েক দিনের শোক মিছিলে লাখো মানুষকে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রায় পাঁচ দশক পর খামেনির দাফনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের সরকারি প্রচারণা চললেও বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
তাদের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন এখন অত্যন্ত দুর্বল। এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি, যিনি তার বাবাকে হত্যার সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন, এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা দেননি।

বহু বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ধারাবাহিক গণবিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে, যা নিরাপত্তা বাহিনী ক্রমবর্ধমান কঠোরতার সঙ্গে দমন করেছে। জানুয়ারিতে এসব দমন অভিযানে হাজারো বিক্ষোভকারী নিহত হন।
তবে এসব গভীর সংকটকে আপাতত আড়ালে রেখে রাষ্ট্রীয় শক্তি ও জনসমর্থনের প্রদর্শনে মনোযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তেহরানের প্রধান সড়কজুড়ে সেনা ও পুলিশের যান মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এবং কালো পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সদস্যরা মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছেন। দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে যেকোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে ইরান।
শুক্রবার কফিনগুলো জনতার উঁচু করে ধরা হাতের ওপর দিয়ে বহন করে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। এরপর একটি সাদা ধাপযুক্ত মঞ্চে কফিনগুলো রাখা হয়। পেছনে ছিল নকশা খচিত উঁচু খিলান এবং দুই পাশে জাতীয় পতাকা ও কালো শোকের পতাকা।
খামেনির কফিনের ওপর একটি ভাঁজ করা চেক নকশার স্কার্ফের ওপর রাখা ছিল কালো পাগড়ি। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর দাবি করা শিয়া আলেমরা সাধারণত এ ধরনের পাগড়ি পরেন। ইরানে ওই স্কার্ফকে বিপ্লবী আদর্শ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের উপপ্রধান হে ওয়েই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আহমেদিসহ বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়েহর পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শুক্রবার সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা একে একে এসে কফিনের সামনে দোয়া করেন এবং শোক প্রকাশ করেন। একদল জেনারেল কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে সামরিক সালাম জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া বিপ্লবী গার্ডের প্রধান আহমাদ বাহিদি, যিনি হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় নিয়োগের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা দেননি।
শোকের আবহে ইরান-ইরাক
ইরানের ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় খামেনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধান বা বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা ছিলেন না; তিনি শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের প্রতিনিধি হিসেবেও বিবেচিত হতেন। নবম শতকে দ্বাদশ ইমাম অন্তর্ধান করেন বলে শিয়াদের বিশ্বাস।
শত্রুর হামলায় তার মৃত্যু শিয়া ধর্মের শহীদ ও শোক পালনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ ঐতিহ্যে শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বুক বা পিঠে আঘাত করে শোক প্রকাশ করেন।
এই প্রতীকী শোকের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে খামেনির মৃত্যুর পর থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে টানানো কালো শোকের পতাকায়। এগুলো সপ্তম শতকে শিয়া ইসলামের তৃতীয় ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের স্মরণ বহন করে।

তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বৃহস্পতিবার রাতভর বহু মানুষ কান্না ও স্লোগান দিতে থাকেন। বাসিজ বাহিনীর এক সদস্য তাদের নেতৃত্ব দেন। অন্যরা নিহত খামেনির ছবি সম্বলিত পোস্টার বিতরণ করেন।
ইসফাহান থেকে আসা ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোবিনা রেজাঘি, যিনি সহপাঠীদের সঙ্গে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, শুধু তার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধহীন না রাখার মাধ্যমেই মানুষের এই শোক কিছুটা লাঘব হতে পারে।’
খামেনির পাশের কফিনগুলোতে রাখা হয়েছে তার সঙ্গে নিহত তার মেয়ে, জামাতা, শিশু নাতনি এবং ছেলে মোজতবার স্ত্রীকে।
যুদ্ধের কারণে দাফনে দেরি
ইসলামী রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর এক দিনের মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে বড় ধরনের দাফন অনুষ্ঠান আয়োজনের ঝুঁকি থাকায় তা স্থগিত করা হয়। গত মাসে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির চুক্তি হওয়ার পর দাফনের আয়োজন করা হয়েছে।
শোকযাত্রীদের জন্য হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, মসজিদ ও ক্রীড়া হলগুলোকে অস্থায়ী আবাসনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাস ও রেল যোগাযোগও প্রধান অনুষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বড় শোক মিছিলের পর খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র কোম শহরে। সেখানে মঙ্গলবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান হবে। সেখানে ইরানের আঞ্চলিক শিয়া মিত্রগোষ্ঠীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সবশেষে বৃহস্পতিবার আরেকটি শোক মিছিলের পর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে খামেনিকে দাফন করা হবে। ইরানে ইমাম রেজা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে টানা ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এই আয়োজনকে শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং জাতীয় শক্তি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সংহতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ইরান।
১৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রগতি এবং চীনের কাছ থেকে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার দিকে ভারত ‘নিবিড়ভাবে নজর’ রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখাপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
১৭ ঘণ্টা আগে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এখন বড় প্রশ্ন— মানুষের শরীর কি এই পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে?
১৯ ঘণ্টা আগে
নিহত পাইলট যে বিমানে ছিলেন, সেটি পিটি এএমএ নামে একটি বিমান সংস্থার মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটি পাপুয়ার দুর্গম এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও ডাক পরিবহন সেবা দিয়ে থাকে।
২০ ঘণ্টা আগে